সব সংবাদ
জাতীয়

বরিশালে এটিএম সংকট: গ্রাহকদের টাকা তোলায় হাসপাতালের মতো ভোগান্তি

বরিশালে এটিএম বুথে টাকা উত্তোলনে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পড়েছে। বেশিরভাগ ব্যাংকের বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ডে টাকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এখন প্রতিবার ৫ হাজার টাকা তোলাতেই ২০ টাকা চার্জ দিতে হচ্ছে।

বরিশালে এটিএম বুথে টাকা তোলা নিয়ে ব্যাংক গ্রাহকদের নতুন সমস্যা তৈরি হয়েছে। ঈদ উল আজহার সময় থেকে এই ভোগান্তি শুরু হয়ে এখন আরও বেড়েছে। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে গ্রাহকরা যেকোনো ব্যাংকের বুথ থেকে নিজের এটিএম কার্ডে নগদ টাকা উত্তোলন করতে পারতেন। প্রতিটি লেনদেনে ১৫ টাকা এবং পরে ২০ টাকা চার্জ কেটে নেওয়া হতো। একবারে ২০ হাজার টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা তোলা যেত।

কিন্তু গত বছরখানেক ধরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকসহ বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক একবারে ২০ হাজারের পরিবর্তে ১০ হাজার টাকায় সীমাবদ্ধ করে। চার্জও বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়। ঈদ উল আজহার সময় থেকে ডাচ-বাংলা ও ইসলামী ব্যাংকসহ বেশিরভাগ ব্যাংকের বুথ থেকে অন্য ব্যাংকের কার্ডে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের সব বুথেই অন্য ব্যাংকের কার্ডে টাকা দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ।

গ্রাহকদের অভিযোগ, তারল্য সংকটে ইসলামী ব্যাংক তাদের এটিএম বুথে নিয়মিত নগদ অর্থ দিতে পারছে না। অনেক সময় ব্যাংকটির বেশিরভাগ বুথ বন্ধ থাকছে। নিরাপত্তা কর্মীরা বলছেন, 'নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে বুথ বন্ধ।' তবে গ্রাহকরা মনে করছেন, নগদ অর্থের ঘাটতিতে বুথগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট মন্তব্য করছে না। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের মতে, কয়েকটি ব্যাংক থেকে গ্রাহকদের অধিক হারে টাকা তুলে নেয়ার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বরিশাল অফিসের প্রধান নির্বাহী জানিয়েছেন, আন্তঃব্যাংক লেনদেনে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি উত্তরণের চেষ্টা চলছে।

সবশেষে শনিবার ডাচ-বাংলাসহ কয়েকটি ব্যাংকের বুথ থেকে এটিএম কার্ডে আগের অর্ধেক, অর্থাৎ একবারে ৫ হাজার টাকা প্রদান শুরু হয়েছে। এখন ৫ হাজার টাকা উত্তোলনেই ২০ টাকা চার্জ দিতে হচ্ছে। ফলে ২০ হাজার টাকা তোলতে গ্রাহকদের এখন ৮০ টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।