হামের টিকায় সাবেক সরকারের গাফিলতি স্পষ্ট, নতুন তদন্ত প্রয়োজন নেই: প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, হামের টিকা কর্মসূচিতে সাবেক সরকারের গাফিলতি স্পষ্ট। ২০২৪-২৫ সালের টিকার রাউন্ড পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। গত তিন মাসে ৬৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, হামের টিকা কর্মসূচিতে আগের সরকারের গাফিলতি এখন স্পষ্ট। এই বিষয়ে নতুন করে তদন্তের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, "গাফিলতি তো আছেই, আমরা তো বলেই দিয়েছি। তাদের গাফিলতির কারণেই ২০২৪-২৫ সালের টিকার রাউন্ডটা পুরোপুরি মিস করা হয়েছে। ভ্যাকসিন কেনা হয়নি, পরিবার পরিকল্পনার সামগ্রীও কেনা হয়নি।" সরকারের তথ্য অনুযায়ী, গেল তিন মাসের বেশি সময়ে হাম ও এর রোগের উপসর্গ নিয়ে ৬৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজারের বেশি এবং হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। মার্চে হামের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় সাফল্য বলে মনে করেন তিনি। ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত আরেকটা রাউন্ড হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেটা একেবারেই হয়নি। তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার হঠাৎ করেই অপারেশন বন্ধ করে দিয়ে ডিপিপিতে মাইগ্রেট করলো, কিন্তু ডিপিপির মাধ্যমে অর্থায়নের ব্যবস্থা তখন ছিল না। টাকার অভাবে তারা টিকা কিনতে পারেনি। এবার যারা হামে আক্রান্ত হয়েছে, সেসব বাচ্চারা জন্মগ্রহণ করেছে ২০২৩-২৪ সালে, যারা কখনোই হামের টিকা পায়নি। মায়েদের অপুষ্টিও এবারের হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ হিসেবে তুলে ধরেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সংকটে পড়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী বর্তমানে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থার সদর দপ্তরে যাচ্ছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় আলোচনা করে জরুরি ভিত্তিতে বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।