খাবারে বিষক্রিয়া: সাধারণ অসুখ নয়, মারাত্মক হতে পারে এই রোগ
খাবার সংরক্ষণে অসতর্কতা থেকে ফুড পয়জনিং হয়। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের বিজয়ওয়াড়ায় একটি ফাস্টফুড দোকানের খাবার খেয়ে অন্তত ৮৮ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, এই রোগে ডায়ারিয়া ও বমির কারণে দ্রুত ডিহাইড্রেশন হয়ে কিডনির সমস্যাও হতে পারে।
খাবারে বিষক্রিয়া বা ফুড পয়জনিং একটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও এটি অনেক সময় মারাত্মক হতে পারে। রান্না করা খাবার দীর্ঘ সময় ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দেওয়া, অপরিষ্কার বাসনপত্র ব্যবহার, রান্নার আগে হাত না ধোয়া এবং কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা — এসব থেকেই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ছড়ায়। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ব্যাকটেরিয়া খুব দ্রুত বংশবিস্তার করে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের বিজয়ওয়াড়ায় একটি ফাস্টফুড আউটলেট থেকে সাওয়ারমা ও পিৎজা খাওয়ার পর অন্তত ৮৮ জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তাদের অধিকাংশের পেটব্যথা, বমি বা বমি ভাব এবং ডায়ারিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট খাবারের দোকানটি সিল করে দিয়েছে প্রশাসন এবং খাবারের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আক্রান্তদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের মতে, খাবারে থাকা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, পরজীবী বা তাদের তৈরি টক্সিন শরীরে প্রবেশ করলে খুব দ্রুত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। আবার কিছু ক্ষেত্রে কয়েক দিন পরেও এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। ফুড পয়জনিং দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। কারণ বমি ও ডায়ারিয়ার ফলে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশন, দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া। এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সাধারণ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। বাইরে খাবার খাওয়ার আগে দোকানের পরিচ্ছন্নতা লক্ষ্য করুন। সম্ভব হলে সদ্য প্রস্তুত ও গরম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। দীর্ঘক্ষণ বাইরে বা খোলা রাখা খাবার এড়িয়ে চলুন। আর ফল ও শাকসবজি ভালো করে ধুয়ে খান এবং সবসময় নিরাপদ পানীয় পানি পান করুন। খাবার তৈরি বা পরিবেশনের আগে ও পরে হাত ধোয়ার অভ্যাসও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফুড পয়জনিং রুখতে দামি কোনো ব্যবস্থার প্রয়োজন নেই। দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।