সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়: জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ছয় বনাম তিন ভোটে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের নির্বাহী আদেশ বাতিল করেছে। আদালত স্পষ্ট করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায় — ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত মঙ্গলবার একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রেখেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি তারিখে একটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছিলেন, যার মাধ্যমে অনিবন্ধিত অভিবাসী এবং অস্থায়ী ভিসাধারীদের সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই আদেশ বাতিল করে দিয়েছে।
ছয় বনাম তিন ভোটে দেওয়া এই রায়ে প্রধান বিচারক জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের পক্ষে লিখেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ১৪তম সংশোধনীতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে — ‘যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব প্রাপ্ত সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।’ রবার্টস আরও বলেন, ‘নাগরিকত্ব মানে অধিকারের অধিকার — আমাদের রাজনৈতিক সম্প্রদায়ে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই প্রতিশ্রুতি প্রতিটি মুক্তজাত শিশুর জন্য প্রসারিত করেছিলেন। আমরা আজ সেই প্রতিশ্রুতি বজায় রাখছি।’
আদালত ১৮৯৮ সালের যুক্তরাষ্ট্র বনাম ওং কিম আর্ক মামলার উল্লেখ করেছে। সেই মামলায় সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেওয়া একজন চীনা বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং তাঁর ভ্রমণ এই অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে না।
বিচারক ব্রেট কাভানা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের সাথে একমত পোষণ করলেও তিনি মতামত দিয়েছেন যে এটি ১৪তম সংশোধনী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের আইনি বিধির অধীনে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়। তিনি এই সম্ভাবনাও উন্মুক্ত রেখেছেন যে কংগ্রেস ফেডারেল আইন সংশোধন করে এই নিয়ম পরিবর্তন করতে পারে।
তিনজন রক্ষণশীল বিচারক — ক্লারেন্স থমাস, নিল গর্সাচ এবং স্যামুয়েল আলিতো — এই রায়ের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। থমাস তাঁর ৯১ পৃষ্ঠার ভিন্নমতে লিখেছেন, ‘আদালত আজ অসাধারণ পদক্ষেপ নিয়েছে — প্রেসিডেন্টের অস্থায়ী পরিদর্শক ও অবৈধ অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্ব বাদ দেওয়ার আদেশকে সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করেছে।’
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বহাল রেখেছে, যা আমাদের দেশের জন্য দুঃখের বিষয়, তবে আমরা কংগ্রেসের মাধ্যমে এটি সহজেই পুষিয়ে নিতে পারি। কোনো দীর্ঘ ও কঠিন সংবিধান সংশোধনীর প্রয়োজন নেই!’ তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৪তম সংশোধনীর অর্থ পরিবর্তন করতে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য।
একইদিনে সুপ্রিম কোর্ট আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে — ট্রান্সজেন্ডার মেয়েদের স্কুলের মেয়েদের দলে খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা বহাল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের সাথে সমন্বিতভাবে খরচের সীমা বাতিল করা।