সব সংবাদ
জাতীয়

উগ্রবাদ আছে, ‘জঙ্গি নেই’: আত্মতুষ্টির আড়ালে বাড়ছে ঝুঁকি?

গুলশান হলি আর্টিজান হামলার ১০ বছর পরেও বাংলাদেশে উগ্রবাদ নিয়ে আত্মতুষ্টির রাজনীতি চলছে। সরকার পর্যায় থেকে দাবি করা হচ্ছে দেশে ‘জঙ্গি নেই’, কিন্তু কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া শতাধিক উগ্রপন্থী এখনও পলাতক। হিযবুত তাহরীর প্রকাশ্য সমাবেশ করছে, আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের খবরও পাওয়া গেছে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় যে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল, সেদিন রাতে ১৭ জন বিদেশিসহ মোট ২২ জন প্রাণ হারান। সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হয়। পরবর্তীতে মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই ঘটনার ১০ বছর পরে এসে দেখা যাচ্ছে, উগ্রবাদ ইস্যুতে রাজনৈতিক আত্মতুষ্টির কোনো শেষ নেই।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর কারাগার থেকে পালিয়ে যান তিন শতাধিক উগ্রবাদে জড়িত বন্দি। এদের অধিকাংশকে এখনও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এরমধ্যে হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ আট শীর্ষ জঙ্গি নিহত হয়েছিলেন।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীর প্রকাশ্য সমাবেশ শুরু করেছে। ৭ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে তাদের শতাধিক সদস্য সমাবেশ করে। খিলাফতের দাবি নিয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনেও সভা করে। পুলিশ সদর দপ্তর ২০২৫ সালের ৭ মার্চ জরুরি বার্তায় জানায়, হিযবুত তাহরীর একটি নিষিদ্ধ সংগঠন এবং এর সব কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ২০২৫ সালের ৬ জুলাই দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব নেই। তবে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলীও একই কথা বলেছিলেন, ‘জঙ্গি নাই, এখন ঠেকাতে হবে ছিনতাই।’

কিন্তু মাঠপর্যায়ের চিত্র ভিন্ন। সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উগ্রবাদে জড়িতদের গ্রেপ্তার চলছে এবং তারা নজরদারি করছেন। পাকিস্তানি উগ্রবাদী সংগঠন টিটিপির সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে চার তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, তারা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে উগ্রবাদের অস্তিত্ব স্বীকার করতে চায় না। এই আড়ালের সুযোগে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা বাড়ছে।

তবে সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন মনে করেন, বিশ্বব্যাপী এখন উগ্রবাদের আগের মতো শঙ্কা নেই এবং বাংলাদেশে বড় হামলার মতো পরিস্থিতি নেই।

২০২২ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে দীপন হত্যা মামলার দুই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পৌনে চার বছর পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলি আর্টিজানের মতো সুপরিকল্পিত হামলাকে সবসময় স্মরণে রাখতে হবে এবং উগ্রবাদ ইস্যুতে আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই।