বিশ্বের প্রথম ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করে চমক দেখাল চীন
চীন বিশ্বের প্রথম ষষ্ঠ প্রজন্মের লেজবিহীন যুদ্ধবিমান তৈরি করেছে। তিনটি ইঞ্জিনবিশিষ্ট এই বিমানটি ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরে প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে অংশ নেয়। চারটি প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে এবং ২০৩০-এর দশকের শুরুতে এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হতে পারে।
সামরিক প্রযুক্তির জগতে একটি বড় মাইলফলক অর্জন করেছে চীন। তারা বিশ্বের প্রথম ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। চেংদু এয়ারক্রাফট কর্পোরেশন এই বিমানটি উদ্ভাবন করেছে। এটি একটি 'টেললেস' বা লেজবিহীন ভারী যুদ্ধবিমান। সম্প্রতি এই বিমানের আকাশে ওড়ার ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে, যা সামরিক বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, লেজবিহীন বিমানটি অত্যন্ত তীব্র গতিতে বাঁক নিয়ে খাড়া ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিমানটির উচ্চ মাত্রার চালচলন প্রমাণিত হয়েছে। সাধারণ যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে ভারসাম্য রক্ষার জন্য পেছনের লেজ ব্যবহার করে। কিন্তু লেজবিহীন যুদ্ধবিমানে এই অংশটি না থাকায় একে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। তবে চীন অত্যন্ত উন্নত মানের ফ্লাইট-কন্ট্রোল সফটওয়্যার এবং ডানার সাথে যুক্ত বিশেষ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে এই বাধা দূর করেছে।
এই বিমানটি তিনটি ইঞ্জিনবিশিষ্ট এবং ২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বরের দিকে প্রথম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে অংশ নেয়। ইতিমধ্যে চারটি প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে।
লেজবিহীন নকশার সুবিধা হলো, এতে রাডার তরঙ্গ প্রতিফলিত হওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফলে বিমানটির রাডার ক্রস সেকশন অনেটা হ্রাস পায় এবং এটি রাডারের চোখ থেকে আড়াল থাকতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ২০৫০ সালের আগে কেবল চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই এই ধরনের যুদ্ধবিমান তৈরি করতে পারবে। তবে চীন এ ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে রয়েছে। চীনের এই বিমানগুলো ২০৩০-এর দশকের শুরুতেই সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হতে পারে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রযুক্তির বিমান (F-47) ২০৪০-এর দশকের আগে সার্ভিসে আসার সম্ভাবনা খুবই কম। বর্তমানে চীনই বিশ্বের একমাত্র দেশ যারা এই প্রযুক্তির সফল উড্ডয়ন করতে সক্ষম হয়েছে।