অর্থনীতি রক্ষায় অটোরিকশা নিষিদ্ধ করুন
দেশে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো লাখ লাখ অটোরিকশার ব্যাটারি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ করা। প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে এবং সরকার বছরে ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে।
দেশে বর্তমানে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট চলছে। প্রচণ্ড দাপদাহের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানায় উৎপাদন স্থবিরতা ও শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিং এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিদ্যুৎ কখন যাবে, কখন আসবে তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই।n
বিদ্যুৎ সংকটের অন্যতম একটি প্রধান কারণ হচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬০ লাখের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে। এগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার গ্যারেজ এবং এগুলোতে প্রায় ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে। এসব গ্যারেজে সরাসরি বিদ্যুতের খুঁটি থেকে হুকিং করে বা আবাসিক মিটার থেকে বিদ্যুৎ টেনে নেওয়া হয়।n
রাতে (অফ-পিক আওয়ার) লাখ লাখ ব্যাটারি রিকশা একযোগে চার্জে বসানো হয়। এই গোপন লোড বা চুরি হওয়া বিদ্যুতের চাপ সামলাতে গিয়ে ট্রান্সফর্মারগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। হিসাব মতে, লাখ লাখ অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করে চার্জ দেয়ায় প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে এবং সরকার বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।n
এই অটোরিকশাগুলো শুধু বিদ্যুৎ সংকটই তৈরি করছে না, সড়কে বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে এবং যানজট সৃষ্টি করে রাস্তাঘাট অচল করে দিচ্ছে। এই বিদ্যুতের অপচয়ের কারণে কৃষি, ডেইরি, পোল্ট্রি শিল্প থেকে শুরু করে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকা দায় হয়ে পড়েছে।n
দৈনিক ইনকিলাবের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শুধু রাজধানীতেই প্রতিমাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার অটোরিকশা নামছে। এই পরিস্থিতি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ সংকট কাটবে কীভাবে?n
বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদরা মতামত ব্যক্ত করছেন, অটোরিকশার মতো বেপরোয়া, বিশৃঙ্খল ও বিপজ্জনক বাহন দ্রুত তুলে দেয়া উচিৎ। দেশের বৃহৎ স্বার্থে অটোরিকশার মতো ক্ষুদ্র স্বার্থ টিকিয়ে রাখার কোনো মানে হয় না। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বিদ্যুৎ সংকট নিরসন ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্বার্থে অটোরিকশা তুলে দেয়া সময়ের দাবি।