সব সংবাদ
খেলা

প্যারাগুয়ের 'কোর্তোয়া': যিনি গ্লাভস ছাড়া সব হারালেন, আর বিশ্বকাপে জার্মানিকে হারালেন

প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে সন্তানের চিকিৎসার জন্য জাতীয় দলের জার্সিও বিক্রি করেছিলেন। শুধু গোলকিপারের গ্লাভসটুকু রেখেছিলেন আর সেই হাতেই এবার কোপা আমেরিকায় জার্মানিকে হারিয়ে জাতীয় বীর হয়ে গেছেন।

প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিলের জীবন যেন এক কাহিনী। ২০২২ সালে তাঁর সন্তান লাওতারো দানিয়েল জন্ম নেয়, কিন্তু জন্ম থেকেই অসুস্থ ছিল শিশুটি। চিকিৎসার বিল মেটাতে গিলকে পড়তে হয় চরম সংকটে। নিজের জামাকাপড় থেকে শুরু করে সব বিক্রি করে দেন তিনি। এমনকি ২০১৯ দক্ষিণ আমেরিকান অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে পরা জাতীয় দলের জার্সিটাও বিক্রি করে দেন। শুধু একটি জিনিস রেখে দিয়েছিলেন নিজের কাছে - গোলকিপারের গ্লাভস।

২০২৪ কোপা আমেরিকায় সেই গিলই দাঁড়িয়ে গেলেন প্যারাগুয়ের গোলপোস্টের নিচে। শেষ ৩২ দলের পর্বে জার্মানির বিরুদ্ধে ১২০ মিনিটে ৬টি শট সেভ করেন তিনি। এরপর টাইব্রেকারে আরও দুটি সেভ করে প্যারাগুয়েকে নিয়ে যান শেষ আটে। জার্মানির এই হার বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গিলের যাত্রা অবশ্য সহজ ছিল না। আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জোতে খেলতেন মিডফিল্ডার হিসেবে, পরে গোলকিপারে রূপান্তর হয় তাঁর। সাড়ে ছয় ফুট উচ্চতার কারণে তাঁকে ডাকা হয় 'প্যারাগুয়ের কোর্তোয়া' নামে - বেলজিয়ামের কিংবদন্তি থিবো কোর্তোয়ার নাম অনুসরণ করে। ২০২৩ সালের শেষে প্যারাগুয়ে ছেড়ে আর্জেন্টিনায় পাড়ি জমান এবং সান লরেঞ্জোর মূল দলে জায়গা করে নেন। গত বছর সেপ্টেম্বরে জাতীয় দলে অভিষেক হয় তাঁর।

জয়ের পর গিল উৎসর্গ করেন অসুস্থ ভাতিজাকে, যে হাসপাতালে ভর্তি আছে। মাঠে তেমন কথা বলেন না বলে সমালোচনাও আছে তাঁর, কিন্তু গোলকিপারের দুই হাত যখন কথা বলে, তখন প্রতিপক্ষকেই বোবা হয়ে যেতে হয় - যেমন জার্মানি হয়ে গেছে!