শান্তিপূর্ণ আন্দোলন উপেক্ষিত হলে বাংলাদেশ-নেপালের মতো সহিংসতার শঙ্কা: সোনম ওয়াংচুকের হুঁশিয়ারি
ভারতের জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট' নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রতিবাদে দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলছে। প্রখ্যাত জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেছেন এবং কেন্দ্র সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে উপেক্ষা করলে ভারতের তরুণ প্রজন্ম বাংলাদেশ ও নেপালের মতো সহিংস আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
ভারতের জাতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট' নিয়ে চলমান বিতর্ক ও অনিয়মের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গন। এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে অনশনে বসেছেন প্রখ্যাত জলবায়ু কর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনশনস্থল থেকে কেন্দ্র সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, যুবসমাজের এই শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে যদি উপেক্ষা করা হয়, তবে ভারতের তরুণ প্রজন্ম পথ হারিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও নেপালের মতো সহিংস আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।
ককচোর জনতা পার্টির (সিজেপি) উদ্যোগে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত অনির্দিষ্টকালের অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন ওয়াংচুক। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবিতে শত শত শিক্ষার্থী যন্তর মন্তরে অবস্থান নিয়েছেন।
যন্তর মন্তরের অস্থায়ী বিছানায় শুয়ে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সোনম ওয়াংচুক বলেন, 'সত্য ও অহিংসা আমার পথ, আর ন্যায়বিচার আমার লক্ষ্য। আমি কখনোই অনাহারে থাকতে চাই না, কেউ-ই চায় না। কিন্তু যখন পিঠ দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন আমি পিছিয়ে আসি না।'
তিনি ভারতের বর্তমান পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ উপায়ের যদি মূল্যায়ন না করা হয়, তবে যুবসমাজ ধরে নেবে যে শান্তির কোনো মূল্য নেই। এর ফলে দেশে চরমপন্থী চিন্তাধারার উত্থান ঘটতে পারে। সম্প্রতি বাংলাদেশে সংঘটিত বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন এবং নেপালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সরকার যদি অহংকারী মনোভাব দেখায় এবং কোনো দায়বদ্ধতা স্বীকার না করে, তবে ভারতও একই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে—যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
ওয়াংচুক জানান, সাম্প্রতিক প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি, চরম একাডেমিক চাপ এবং পরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের কারণে ভারতে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনাগুলো দেশের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ একটি ইতিবাচক প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে, তবে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংস্কার প্রয়োজন। শিক্ষা খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ না করলে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্র (বিকশিত ভারত) হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন কেবলই ফাঁকা আওয়জ হয়ে থাকবে।
এদিকে চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অনশনের কারণে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। আজ সকালেই তাঁর রক্তের শর্করার মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে ৬৬-তে নেমে এসেছে। তা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার এবং কর্তৃপক্ষের দিকে তিক্ততার বদলে ফুল বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এখন দেখার বিষয়, আসন্ন সংসদের বাদল অধিবেশনের আগে সরকার এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাকে সাড়া দেয়, নাকি নীরবতার কৌশল বজায় রেখে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।