ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট, পুতিন স্বীকার করলেন
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটিতে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি এই সংকট স্বীকার করেছেন এবং জ্বালানি রেশনিংয়ের কথা বলেছেন।
ইউক্রেন সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি সুবিধায় ব্যাপক হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে এবং পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। গত রবিবার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অস্বাভাবিকভাবে স্বীকার করেন যে ইউক্রেনের হামলার কারণে জ্বালানি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, ড্রাইভারদের এবং ব্যবসায়ীদের জন্য সমস্যা অব্যাহত রয়েছে এবং দুঃখের বিষয়, পেট্রোল স্টেশনগুলোতে এখনো লাইন দেখা যাচ্ছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে। রাশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম তেল শোধনাগার নর্সি গত সপ্তাহে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর কার্যক্রম স্থগিত করেছে। এছাড়া, ওরেনবুর্গ গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এবং ক্রিমিয়ার তেল সুবিধাও ইউক্রেনের হামলার শিকার হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন বিশেষভাবে তেল শোধনাগারের ফ্লুইড ক্যাটালাইটিক ক্র্যাকিং ইউনিট টার্গেট করছে, যাকে শোধনাগারের হৃদয় বলা হয়।
জ্বালানি সংকট রাশিয়ার অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে। দেশটির বেশিরভাগ অঞ্চলে পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রয়ে সীমা আরোপ করা হয়েছে এবং কিছু গ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি মানুষের কাজে যাওয়া, পণ্য পরিবহন, ট্যাক্সি এবং কৃষি কাজে বাধা দিচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম গম রপ্তানিকারক রাশিয়ায় জ্বালানি সংকট জুলাই-আগস্টের ফসল কাটার মৌসুমেও বড় সমস্যা সৃষ্টি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে, সামরিক খাত অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং যুদ্ধের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনে ভোক্তাদের চাহিদা উপেক্ষা করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিন এই সংকট স্বীকার করেছেন কারণ এটি এড়িয়ে যাওয়ার মতো নেমে গেছে। তবে এই সমস্যা রাশিয়ায় তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করবে না, বরং ক্ষয়ক্ষতি ধীরে ধীরে জমে উপস্তিত হবে।