ঋণের চাপে হত্যা: পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তাল দোহার
ঢাকার দোহারে এনজিও ঋণের চাপে পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এনজিও কর্মকর্তাদের হয়রানি ও ভয়ভীতি সইতে না পেরে প্রথমে মেয়ে লাভলী এবং পাঁচ দিন পর মা রেহানা বেগম মারা যান।
ঢাকার দোহার উপজেলায় ঋণের চাপে এক মা ও তার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোহারের খালপাড় এলাকার বাসিন্দা লাভলী আক্তার এক বছর আগে উপজেলার বটিয়ায় অবস্থিত 'রুরাল কনস্ট্রাকশন নিউনেশন' এনজিও থেকে তিন লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠান। কিন্তু ছেলে টাকা না পাঠানোয় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন লাভলী। এনজিও কর্মকর্তারা নানাভাবে চাপ দিতে থাকেন এবং গালাগাল করেন। পরিশোধ করতে না পেরে ভয়ে লাভলী বাড়ি ছেড়ে মায়ের বাড়ি নাগেরকান্দায় চলে যান। সেখানেও এনজিওর এক কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে গিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখান। এই ঘটনার পরই লাভলী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২৪ জুন সন্ধ্যায় হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। লাভলীর মৃত্যুর এক সপ্তাম না যেতেই ঋণ আদায়ের জন্য তার মা রেহানা বেগমকেও চাপ দেওয়া হয়। ভয়ভীতি সইতে না পেরে রেহানা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে দোহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। পাঁচ দিনের ব্যবধানে মা-মেয়ের এই মৃত্যুতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ উভয়ের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে নুরুল ইসলাম বলেছেন, এনজিওর লোকজন মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে এবং পুলিশের ভয় দেখিয়েছে। এনজিওর এমন আচরণে ভয়ে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। এ বিষয়ে সরকারের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।