কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কারিগরি বৈঠকের প্রস্তুতি
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে কাতার ও পাকিস্তান যৌথভাবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে বসছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হামলার মাঝেই নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার আজ মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল-থানির সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দোহার এই বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও মধ্যস্থতাকারী অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া আগামীকাল বুধবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের আলাদাভাবে একটি কারিগরি বা টেকনিক্যাল আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈঠক হবে কি না—তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশের পক্ষ থেকেই মিশ্র সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে সোমবার ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো পর্যায়েই আলোচনার কোনো পরিকল্পনা বা শিডিউল তাদের নেই। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দাবি করেছেন, দোহায় ইরানের সাথে বৈঠক করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও সমঝোতা স্মারক (MoU) সংক্রান্ত এই কারিগরি আলোচনা সঠিক পথেই রয়েছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা। মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি রক্ষা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বরফ গলাতে কাতার ও পাকিস্তানের এই যৌথ মধ্যস্থতা কতটুকু সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।