কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের বাঁধ ধসে আট গ্রাম প্লাবিত, পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রায় ৪০ মিটার অংশ ধসে পড়েছে। এতে আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ধরলা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় দুধকুমার নদের তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। সোমবার রাতে তীব্র স্রোতে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মুড়িয়ারহাট এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার বাঁধের অংশ ধসে পড়ে। এরপর থেকেই লোকালয়ে পানি ঢুকে নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার (২৯ দশমিক ৬০ মিটার) ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই নদটি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
ভাঙা বাঁধ এলাকার কৃষক নজর আলী শেখ জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর চারদিক পানিতে তলিয়ে গেছে। তার বাড়িঘরসহ আট বিঘা আবাদি জমি এবং আমনের বীজতলা পানির নিচে চলে গেছে। পানির সঙ্গে বালু আসছে। ভেসে আসা বালু জমিতে পড়লে আগামী কয়েক বছর চাষাবাদ কঠিন হয়ে যাবে। একই গ্রামের কৃষক হাসমত আলী বলেন, গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ডিঙ্গি নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলায় চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক পরিবার রান্না করতে পারছে না। শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। সোমবার রাতে বাঁধ ভাঙার পর প্রায় ২৫০ পরিবারের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকেছে।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রনি জানান, বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর তার ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ভাঙা অংশ দিয়ে এখনো প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। ইউনিয়নের প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, পানির প্রবল স্রোতের কারণে দুধকুমারের তীররক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ঘটনাস্থলে পাউবোর কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। ভাঙন যেন বিস্তৃত না হয়, সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে বাঁশের পাইলিং করে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, কুড়িগ্রাম জেলায় অন্তত ৩৮টি স্থানে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রতিনিয়ত নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আবাদি জমি, বসতভিটা ও বিভিন্ন স্থাপনা।
এদিকে, গত দুই দিনের বন্যায় রংপুর অঞ্চলের লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার অন্তত ২০ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উজানের ঢল কিছুটা কমে আসায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নেমেছে। তবে তিস্তাপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে ধরলাপাড়েও নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র নদ এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকায় অন্যান্য নদীর পানি সহজেই সেখানে নেমে যাচ্ছে। কিন্তু ব্রহ্মপুত্র বিপৎসীমা অতিক্রম করলেই উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।