মানবতাবিরোধী অপরাধে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছর কারাদণ্ড
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আটটি অভিযোগের মধ্যে মাত্র তিনটিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে তাকে।
গত বছরের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কুষ্টিয়ায় ছয়জন নিরীহ মানুষকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিশিষ্ট রাজনীতিক হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ৩০ জুন দুপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন ইনু নিজে।
আদালত তার বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তৃতীয় অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এছাড়া ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে এক লাখ করে দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং ১০ বছর করে দণ্ড দেওয়া হয়। বাকি পাঁচটি অভিযোগে (১, ২, ৪, ৫ ও ৮) তাকে খালাস দেওয়া হয়। আলাদা আলাদা দণ্ড হলেও তাকে মোট ১০ বছরের সাজা ভোগ করতে হবে।
মামলার প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মিরর নাউ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইনু আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন। ১৯ জুলাই গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন এবং নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে 'শ্যুট অ্যাট সাইট' নির্দেশনা কার্যকরে ভূমিকা রাখেন।
২০ জুলাই দুপুরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোনে আন্দোলনকারীদের তালিকা প্রণয়ন ও ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন ইনু। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ।
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। ১১ সেপ্টেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২ নভেম্বর আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৪ মে যুক্তিতর্ক শেষ হয়। ৩০ জুন এই রায় ঘোষিত হয়।
এ মামলায় মোট ১০ জন জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। আসামিপক্ষে দুজন সাফাই সাক্ষ্য দেন।