সিলেট-সুনামগঞ্জে ভারতের পাহাড়ি বন্যা, ৫ উপজেলায় জলাবদ্ধতা
ভারতের মেঘালয়ে তীব্র বৃষ্টির কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ি ঢল নেমেছে। এতে পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং আকস্মিক বন্যার শঙ্কা বিরাজ করছে।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যে অতিভারী বৃষ্টিপাতের ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পাহাড়ি ঢল নেমে এসেছে। এই পাহাড়ি স্রোতের কারণে পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল জলে তলিয়ে গেছে এবং ধারাবাহিক বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে সুনামগঞ্জের আনোয়ারপুর এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, ফলে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এছাড়া সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথর পর্যটন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের মাউসিনরামে ৫২৬ মিলিমিটার, মাওকিয়াতে ৩৮৫ মিলিমিটার ও চেরাপুঞ্জিতে ৩৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের লাউড়েরগড়ে ৮৭ মিলিমিটার এবং সিলেটের জাফলংয়ে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
রোববার সকালের পূর্বাভাস অনুসারে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট, ছাতক ও সদর পয়েন্টে, কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় এই নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানিয়েছেন, পাহাড়ি ঢল নামার সময় জাফলং জিরো পয়েন্টের অস্থায়ী দোকানপাট দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তাহিরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেছেন, আনোয়ারপুর এলাকায় রাস্তার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে তাহিরপুরের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন আছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের খেয়া নৌকা নিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে এবং সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।