৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পাস সংসদে
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন পেয়েছে। এটি তারেক রহমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের বাজেট। বাজেটে জিডিপির ৬.৫% প্রবৃদ্ধি এবং ৭.৫% মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে নতুন অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু ১ জুলাই থেকে এই বাজেট কার্যকর হবে। এটি তারেক রহমান সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের বাজেট।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। এবারের বাজেটের শিরোনাম রাখা হয়েছে 'গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা'। প্রস্তাবিত ব্যয় বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৯ শতাংশ বেশি এবং এটি বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৩ দশমিক ৭৩ শতাংশের সমান।
এর আগে সোমবার অর্থ বিল, ২০২৬ পাস হয়, যাতে ৬৪টি সংশোধনী গৃহীত হয়। সংশোধনীর ফলে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে।
বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে অর্থ বিভাগের জন্য। এ খাতে মোট ৮ লাখ ৩০ হাজার ৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এরপর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের জন্য ৬৯ হাজার ২৪৮ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জন্য ৪৯ হাজার ৩৮৬ কোটি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪৬ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
নতুন বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪৭ শতাংশ বেশি। পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা।
নতুন অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত রাজস্ব আয়ের চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। এনবিআরের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন বাজেটে আয় ও ব্যয়ের সামগ্রিক ঘাটতি থাকছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের সমান।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।