ঢাকায় এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক নজরদারি: দেড় হাজার মামলা, ৩৮ হাজার সমন অনিষ্পন্ন
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সড়কে এআই ক্যামেরা স্থাপন করে যানজট নিরসন ও আইন প্রয়োগে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছে। গত দুই মাসে এই ক্যামেরায় শনাক্ত করে প্রায় দেড় হাজার মামলা দায়ের হয়েছে। তবে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনসহ নানান জটিলতায় ৩৮ হাজার সমন এখনো পেন্ডিং রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর সড়কে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংবলিত ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, রাজধানীতে বর্তমানে ১৯টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি আগে থেকে ছিল এবং সম্প্রতি আরো ৪টি যুক্ত হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল ডিএমপি সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকির এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের সতর্ক করা হয়। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকদিন চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু হয়। এআই ক্যামেরা চালুর পর থেকে গত দুই মাসে প্রায় দেড় হাজার মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলার ডিজিটাল কপি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। তবে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের জটিলতায় অনেক মামলার কাগজ পূর্বের মালিকের কাছে চলে যাচ্ছে। ফলে মামলা সমাধান না হওয়ায় ৩৮ হাজার সমন এখনো পেন্ডিং রয়েছে বলে জানিয়েছেন কমিশনার। এই এআই ক্যামেরা গতিসীমা লঙ্ঘন, বিপদজনক লেন পরিবর্তন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালনা, অবৈধ পার্কিং এবং যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে। ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে এবং চালকদের মধ্যে নির্দিষ্ট লেনে থাকার ও সিগনাল মেনে চলার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।