সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ১৭১৯, উদ্ধারে ভরসা এখন কেবল ভাগ্য!

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা দুটি প্রবল ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি উদ্ধার অভিযান ধীরগতিতে হওয়ায় বিপর্যস্ত এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে স্বজনদের খুঁজছেন। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় জীবিত উদ্ধারের আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি প্রবল ভূমিকম্প আঘাত হানে, যেতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এটিকে ভেনেজুয়েলার ইতিহাসের 'সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর লা গুয়াইরা বন্দরের বাসিন্দারা এখন নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করছেন। তারা শাবল, হাতুড়ি ও কোদাল ব্যবহার করছেন। হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সহায়তা এলেও গুরুত্বপূর্ণ সময় পেরিয়ে যাওয়ায় জীবিতদের খুঁজে পাওয়ার আশা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। তবে সোমবার ভোরে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে - যা এই বিপর্যয়ে একটি বিরল আশার আলো।

জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পর ৫০০টিরও বেশি পরাঘাত (আফটারশক) হয়েছে এবং অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জাতিসংঘ ১০ হাজার মৃতদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহ করছে।

এদিকে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রাস্তায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেলেও উদ্ধার অভিযানে তাদের তেমন দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানে খুব কম সরকারি কর্মকর্তাকে দেখা গেছে। কৃষক ও অন্যান্য স্থানীয়দের সরবরাহ করা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীই দুর্গত মানুষের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২৫ হাজারেরও বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ সদস্য ও সেনাসদস্য উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, প্রতিটি জীবন বাঁচানোই এখন তাদের জন্য বড় অর্জন।