সব সংবাদ
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন সেবা পুনরায় চালু হবে কবে?

প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন সেবা। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় এই ট্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এখন ভারতে পর্যটন ভিসা চালু হওয়ায় আবারও ট্রেন চালুর আলোচনা শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একসময় তিনটি আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল করত। মৈত্রী এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কলকাতা, বন্ধন এক্সপ্রেস খুলনা থেকে কলকাতা এবং মিতালী এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত চলাচল করত। তবে প্রায় দুই বছর ধরে এই সেবা বন্ধ রয়েছে।

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ডাকা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর ধারাবাহিকতায় মৈত্রী এক্সপ্রেস ১৬ জুলাই, বন্ধন এক্সপ্রেস ১৭ জুলাই এবং মিতালী এক্সপ্রেস ১৮ জুলাই থেকে বন্ধ রয়েছে।

এদিকে গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা চালু হয়েছে। এতে বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই আবার আলোচনায় এসেছে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচলের বিষয়টি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতীয় রেলওয়েকে পাঠানো সর্বশেষ চিঠির উত্তর এখনও আসেনি। নতুন করে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এলে আবারও যোগাযোগ করা হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ট্রেন চালু হওয়ার বিষয়টি মূলত ভিসা সহজ হওয়া, যাত্রীর সংখ্যা এবং সেবাটির বাণিজ্যিক লাভজনকতার ওপর নির্ভর করছে। এটি রাজনৈতিক নয়; বরং ব্যবসায়িক বাস্তবতা ও দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চালুর বিষয়ে আবারও আলোচনা শুরু হতে পারে। রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, এ বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, ভিসা সহজ না হলে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে না। আবার যাত্রী কম হলে ট্রেন পরিচালনাও লাভজনক হবে না। কোনো দেশই দীর্ঘদিন লোকসান দিয়ে এ ধরনের সেবা চালিয়ে যেতে চাইবে না।

ট্রেনের ভাড়া সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৫ জুন বাড়ানো হয়। মৈত্রী এক্সপ্রেসের এসি সিট ভাড়া ৫ হাজার ১১০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ৩ হাজার ৭৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। বন্ধন এক্সপ্রেসের এসি সিট ভাড়া ৩ হাজার ৫৫ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ২ হাজার ৩৭০ টাকা ছিল। মিতালী এক্সপ্রেসের এসি বার্থ ভাড়া ৭ হাজার ২৫ টাকা, এসি সিটের ভাড়া ৪ হাজার ৫২০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ৪ হাজার ১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

প্রায় ২ বছর হয়ে গেছে আন্তঃদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ। এরমধ্যে বাংলাদেশে ডলারের দাম বেড়েছে ১৪ থেকে ১৫ টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হলে আবারও হয়তো ভাড়া সমন্বয় হতে পারে।

মূল প্রতিবেদন (Reference): বাংলাদেশ-ভারত ট্রেন চলবে কবে? — Dhaka Post