সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে ভারতকে কঠোর হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন চুক্তি (আইডব্লিউটি) ঘিরে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তানের ন্যায্য পানির অংশে হস্তক্ষেপ করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
৩০ জুন ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত খবরে জানানো হয়েছে, সিন্ধু নদীর পানি বণ্টন চুক্তি (ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি-আইডব্লিউটি) নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, যদি কেউ পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অংশে হাত দেয়, তাহলে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে। মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত সিন্ধু নদের পানির ওপর একতরফা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তার দাবি, পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি আটকে দেওয়ার যেকোনো উদ্যোগ শুধু দ্বিপক্ষীয় চুক্তিরই লঙ্ঘন নয়, বরং কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্যও হুমকি। ২০২৫ সালে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হওয়ার পর ভারত সিন্ধু পানি চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে পানি ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের এই মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। দেশের খাদ্য উৎপাদন, প্রায় অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য অংশ পানির ওপর নির্ভরশীল। তাই পানির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা হলে তা পুরো দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যব্যবস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হানবে। তিনি বলেন, পাকিস্তান আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে—দেশটির ন্যায্য পানির অংশ থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করলে তার কঠোর পরিণতি হবে। মুসাদিক মালিকের দাবি, ইনডাস ওয়াটার্স ট্রিটি এখনো বহাল রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এর বাধ্যবাধকতা কার্যকর। তিনি বলেন, এই ইস্যু শুধু ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার এবং ভাটির দেশের মানুষের পানির অধিকারের প্রশ্ন। পাকিস্তান এ বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছে তুলে ধরবে বলেও জানান তিনি।