টাইব্রেকারে জার্মানির বিদায়, শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নাটকীয় টাইব্রেকারে জার্মানিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার-ফাইনালের দরজায় পৌঁছেছে প্যারাগুয়ে। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচে পেনাল্টি শুটআউটে গোলরক্ষক ওর্লান্দো হিলের অসাধারণ পারফরম্যান্সে জয়ী হয় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। এটি প্যারাগুয়ের প্রথম টাইব্রেকার জয় এবং তাদের সেরা সাফল্য।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকালে বস্টন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্যারাগুয়ে অবিশ্বাস্য এক জয়ের সাক্ষী হয়েছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত সময় শেষে স্কোর ছিল ১-১। প্রথমার্ধে ৪২তম মিনিটে অরক্ষিত অবস্থায় হেডে গোল করেন হুলিও এন্সিসো, যা প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথম গোল। বিরতির পর ৫৪তম মিনিটে ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের দুর্দান্ত ক্রসে হেডে সমতা আনেন কাই হাভার্টজ।
অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জার্মানির জনাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে হেডে গোল করেন জোনাথান টাহ, কিন্তু ভিএআরে দেখে রেফারি গোল বাতিল করেন — আন্তন ভালদেমার গোলরক্ষককে বাধা দিয়েছিলেন। ১১৯তম মিনিটে আরেকটি কর্নারে ভালদেমার হেড ঠেকান হিল।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রথম পাঁচটি শটে দুটি ঠেকিয়ে হিল হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। জার্মানির প্রথম তিন শটে গোল পান জসুয়া কিমিখ, জামাল মুসিয়ালা ও নাদিম আমিরি। প্যারাগুয়ের প্রথম তিন শটে মেলে জাল। চতুর্থ শটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে গেলেও আন্তোনিও সানাব্রিয়া বাইরে মারেন। পঞ্চম শটে ফাবিয়ান বালবুয়েনার শট ঠেকান মানুয়েল নয়ার।
সাডেন ডেথে জার্মানির ইয়োনাথান টাহ বল উড়িয়ে মারেন, এরপর হোসে কানালে স্পটকিকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ঐতিহাসিক জয় এনে দেন।
এই জয়ে প্যারাগুয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠলো, যা তাদের বিশ্বকাপের সেরা সাফল্য। জার্মানি ২০১৪ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এবারই প্রথম নকআউটে উঠেছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে একুয়েডরের কাছে ২-১ হারের পর এই পরাজয় তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক হয়ে রইল। কোয়ার্টার-ফাইনালে প্যারাগুয়ে ফ্রান্স অথবা সুইডেনের বিপক্ষে খেলবে।