সব সংবাদ
শিক্ষা

প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষাক্রমে সংস্কৃতি-ক্রীড়া ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের প্লাটফর্ম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যেখানে শিক্ষাক্রমের মধ্যে সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের প্লাটফর্ম থাকবে। সোমবার বিকালে রাজধানীতে আয়োজিত এক জাতীয় প্রদর্শনীতে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চান যেখানে শিক্ষাক্রমের ভেতরে সংস্কৃতি থাকবে, ক্রীড়া থাকবে এবং সুপ্ত প্রতিভার বিকাশের জন্য প্লাটফর্ম তৈরি করে দেওয়া হবে। যেখানে যেই শিক্ষার্থীর যেই বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে, সরকার তার সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও আন্তরিকতা দিয়ে পাশে দাঁড়াবে। এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রধানমন্ত্রী চান যেখানে দক্ষতা ও যোগ্যতা তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠার গুণাবলি, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক শিক্ষা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। সোমবার বিকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এদিন সারা দেশে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ জাতীয় প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মাহদী আমিন বলেন, আয়োজনটা অনেকটাই ভিন্নমাত্রিক ও বৈচিত্র্যপূর্ণ। সরকার গঠনের পর খুব স্বল্প সময়ে বাংলাদেশের প্রতিটি জেলার, প্রতিটি ইউনিয়নের এবং প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে এই আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজনটা প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক রূপকল্পেরই প্রতিফলন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেছেন যে তিনি এমন একটি বাংলাদেশ চান যেখানে সমতা থাকবে এবং কোনো বৈষম্য থাকবে না। ৬৪ জেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিত্ব রয়েছে এই প্রতিযোগিতায়। ১০১টি প্রজেক্টের মধ্যে বাংলাদেশের তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেছে। সকল ধর্ম, বর্ণ ও বিভিন্ন ভৌগোলিক পরিবেশের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে। মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময় চেয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেভাবে নারীদের প্রাধান্য দিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীও তেমনই মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত ফ্রি এডুকেশন ও স্কলারশিপের ব্যবস্থা করেছেন। শুনলে খুশি হবেন, এই প্রতিযোগিতায় ৮০০০-এর বেশি টিম অংশগ্রহণ করেছে। প্রায় ২৪,০০০ শিক্ষার্থী এবং ১৬,০০০ শিক্ষক অংশগ্রহণ করেছেন। ২৪,০০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছেলেদের চাইতে অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং গার্লস গাইডের প্রচারণা স্কুলগুলোতে আরও বাড়াতে হবে। মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ চান যেখানে স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিটা মানুষ তার দায়িত্ব পালন করবে। এখানে স্টার্টআপ যে প্রজেক্টগুলো এসেছে, তা প্রত্যেকটাই সমাজের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে পারবে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে পারবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। ১০১টি প্রজেক্টকে নার্চার করা হবে এবং প্রয়োজনে অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষা ব্যবস্থার মূল কাণ্ডারি শিক্ষার্থীরা এবং তাদের গড়ে তোলার কারিগর শিক্ষকেরা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুন্দর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠতে হবে। এজন্য প্রতিটা টিমে তিনজন শিক্ষার্থী এবং দুইজন শিক্ষক রয়েছেন। আজকে ১০৪২ জন শিক্ষককে ‘সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাকে কভার করছে। ১০১টি দলে ৩০৩ জন শিক্ষার্থীকে ‘উদ্ভাবনে মেধাবী শিক্ষার্থী অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ স্কিমের আওতায় সারা দেশে ২৯,৬২১টি প্রতিষ্ঠানে তিনটি করে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে এবং মোট ৮৮,৮৬৩টি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ দেশের বিভিন্ন বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।