ফুলগাজীতে হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার: র্যাবের জট খোলার কৌশল
ফেনীর ফুলগাজীতে এক নারীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় র্যাব এক আত্মীয়কে গ্রেপ্তার করেছে। ঋণের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে চুরির জন্য গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে সে। তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের নাকের নিচে নখের আঁচড়ের দাগ দেখে রহস্য উদ্ঘাটন করেন।
ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ তালবাড়িয়া গ্রাম থেকে এক নারীর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার হয়। নিহত নারীর নাম কুলসুম কাজল (৩৫)। তিনি কুয়েতপ্রবাসী নুরুল আমিনের স্ত্রী এবং তিন সন্তানের মা। ছোট সন্তানকে নিয়ে তিনি বাড়িতে থাকতেন। গত শুক্রবার রাতে কুলসুম ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে মুখোশ পরে টিনের চাল কেটে ঘরে ঢোকেন এক যুবক। কুলসুমের ঘুম ভেঙে যাওয়ায় তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় যুবক কুলসুমের হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ পেঁচিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে তিনি মৃত ভেবে পালিয়ে যান। ধস্তাধস্তির সময় কুলসুমের নখের আঁচড়ে ওই যুবকের নাকের নিচে ক্ষতচিহ্ন তৈরি হয়। শনিবার ভোরে কুলসুমের ভাশুর গোঙানির শব্দ শুনে খোঁজ করতে গেলে ঘরের টিনের চাল কাটা দেখা যায়। ঘরে ঢুকে কুলসুমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা থানায় হত্যা মামলা করেন এবং র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আরিফুল নামে এক যুবকের নাকের নিচে নখের আঁচড়ের দাগ লক্ষ্য করেন তদন্তকারীরা। রোববার রাতে উত্তর ধর্মপুর এলাকা থেকে মো. আরিফুল ইসলাম (৩১) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই গ্রামের মো. রসুল মিয়ার ছেলে এবং পেশায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। র্যাবের দাবি, আরিফুল একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো। চলতি মাসের কিস্তির টাকা জোগাড় করতে তিনি চুরির পরিকল্পনা করেন। সোমবার দুপুরে র্যাব-৭ ফেনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ হত্যার রহস্য উন্মোচনের কথা জানানো হয়। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আরিফুলকে ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।