সব সংবাদ
অর্থনীতি

গাজীপুরে তীব্র লোডশেডিংয়ে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গরমের মধ্যে দিনে-রাতে ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, কোথাও ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

গাজীপুর মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গরমের সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। দিনে-রাতে বারবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিণ্ঠ হয়ে উঠেছে। একইসঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্প-কারখানা ও ব্যবসা-বাণিজ্য।

নগরীর টঙ্গী, গাজীপুর সদর, জয়দেবপুর, চান্দনা চৌরাস্তা, বোর্ডবাজার, কোনাবাড়ী, কাশিমপুর, গাছা, পূবাইল, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিমসহ বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও এক ঘণ্টা, কোথাও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। জেলার কাপাসিয়া ও শ্রীপুরে কালিগঞ্জ এলাকায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বিভিন্ন সময়ে চার থেকে পাঁচবার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। শিল্প-কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। গাজীপুরের এসপিএম ডিজাইন লিমিটেডের অ্যাডমিন ম্যানেজার ফয়েজ আহমেদ জানান, তাদের কারখানায় প্রায় এক হাজার শ্রমিক কাজ করেন। লোডশেডিংয়ে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ হচ্ছে।

শ্রীপুর উপজেলার বৈরাগীরচালা গ্রামের মুমতাহিনা ফুডস অ্যান্ড অয়েলস মিলের মালিক আব্দুস সাত্তার ভূঁইয়া জানান, গত কয়েক সপ্তাহে লোডশেডিংয়ের কারণে তার কারখানায় তেল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

গাজীপুর সদর এলাকার শিক্ষক মাওলানা ফাইজ উদ্দিন বলেন, দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীরা বেশি সমস্যায় পড়েছে।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঘন ঘন লোডশেডিং ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী। তারা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবি জানান।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর মৌচাক জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ রফিকুল আজাদ বলেন, মৌচাক ও বান্নারা এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৭০ মেগাওয়াট হলেও সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী মাত্র ৩২ মেগাওয়াট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং এড়ানো যাচ্ছে না।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর শ্রীপুর জোনাল অফিসের জেনারেল ম্যানেজার আনোয়ারুল আলম জানান, শ্রীপুর উপজেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট। বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

গতকাল জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লার টিউব লিক হয়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে এবং বঙ্গোপসাগরে সমুদ্র উত্তাল থাকার কারণে কয়লা খালাস করা সম্ভব না হওয়ায় আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আংশিক বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সঞ্চালন গ্রিড থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কমে গেছে।