সব সংবাদ
জাতীয়

বিদ্যুৎ সংকট: লোডশেডিং কমাতে উৎপাদন বাড়ানো জরুরি

দেশে গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। উৎপাদনসক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকট ও কারিগরি সমস্যায় প্রতিদিন মাত্র ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন হচ্ছে।

দেশে বিদ্যুৎ সংকট চরমে পৌঁছেছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হচ্ছে। গত শনিবার রাতে এ সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন আট থেকে দশ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষ রাস্তায় বিক্ষোভ করছে, এমনকি কিছু এলাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) এবং বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, দেশে মোট উৎপাদনসক্ষমতা প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট। বর্তমানে প্রতিদিনের চাহিদা ১৭ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু নানা কারণে প্রকৃত উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। এর প্রধান কারণগুলো হলো জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারিগরি ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জ।

গত রোববার সংসদ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। মন্ত্রী জানান, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ এবং অন্যটিতে উৎপাদন কম হচ্ছে। সিদ্ধান্ত হয়, সারে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দেওয়া এবং তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বাড়ানোর।

পিডিবি কর্মকর্তাদের মতে, অর্থ সংকটই বড় বাধা। পিডিবির কাছে সরকারি-বেসরকারি কোম্পানিগুলোর বিল বাকী রয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পাবে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তাদের ৭-৮ মাসের বিল বাকি আছে। বেসরকারি কোম্পানি মালিকরা বলেছেন, তারা উৎপাদন বাড়াতে প্রস্তুত, কিন্তু আগে বকেয়া পাওনা মেটাতে হবে।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল জ্বালানি গ্যাস, তেল ও কয়লা। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদনসক্ষমতা সবচেয়ে বেশি, ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের সক্ষমতা ৬ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট এবং তেলভিত্তিক ৪৩টি কেন্দ্রের মোট সক্ষমতা ৫ হাজার ৬৪১ মেগাওয়াট। কিন্তু এখন গ্যাস সংকটে অনেক কেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ। কয়লা আমদানিতেও সমস্যা হচ্ছে। তেলের প্রায় পুরোটাই আমদানি করতে হয়। ফলে জ্বালানি সংকটে অনেক তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন বন্ধ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি ও বিদ্যুতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানি উৎসে গুরুত্ব দিতে হবে। জ্বালানি ও বিদ্যুতের অপচয় ও চুরি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যাটারিচালিত রিকশায় যে শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, সেটাও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।