সব সংবাদ
জাতীয়

কৃষি খাতে বরাদ্দ ও গবেষণা বৃদ্ধির আহ্বান রিজভীর

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, দেশের কৃষির টেকসই উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান বাজেটে কৃষি খাতের বরাদ্দ মূল্যস্ফীতির তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।

গতকাল রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে এগ্রিকালচারিস্টস’ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এএবি) আয়োজিত ‘কৃষি উন্নয়নের রূপান্তর ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, বর্তমান বাজেটে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মধ্যে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় তা পর্যাপ্ত নয়। এখনও দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান কৃষিনির্ভর হওয়ায় জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে আরও অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর কৃষি ঋণ, সেচ, খাল খনন ও যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে দেশের কৃষিতে যে অগ্রগতি শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় আজ বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তবে সেই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে গবেষণা, প্রযুক্তি ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কৃষিপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে রপ্তানির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভিয়েতনাম বাংলাদেশের কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু নিচ্ছে। কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার আরও সম্প্রসারণ করা গেলে অতিরিক্ত উৎপাদন নষ্ট হবে না এবং কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন। কৃষিপণ্যের সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু আলু নয়, পেঁয়াজ, আমসহ অন্যান্য ফল ও সবজি দীর্ঘমেয়াদে সংরক্ষণের প্রযুক্তি দেশে চালু করা প্রয়োজন। এতে আমদানি নির্ভরতা কমবে এবং কৃষকের ক্ষতি হ্রাস পাবে। বাংলাদেশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ জনবল রয়েছে। তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের মতো দেশ কৃষিভিত্তিক শিল্পের মাধ্যমে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশও কৃষিকে ভিত্তি করে শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখতে পারে। তিনি বলেন, কৃষি দুর্বল হলে খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি-সবকিছুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি সহ কৃষির সব উপখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে সরকারের ঘোষিত উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হবে।