বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আইডিএ ঋণ ও রেমিটেন্সের সহায়তায় রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতি বা রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল। সোমবার দিন শেষে বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ৩২ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। এই হিসাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৭ দশমিক শূন্য ৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র মোহম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী জানান, আইডিএ-এর ঋণ ও অনুদানের ৬৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার যোগ হয়েছে। এর আগে গত ১৪ জুন এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বাজেট সহায়তা ঋণের ১ বিলিয়ন ডলার যোগ হওয়ার পর রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় রিজার্ভ বাড়তে সাহায্য করছে। গত মে মাসে ৩ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। চলতি জুন মাসের প্রথম ১৩ দিনেই এসেছে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৭ দিন বাকি থাকতেই ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পাঠান প্রবাসীরা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ৩৯ মাস পর গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ২০২২ সালের নভেম্বরে প্রথম সপ্তাহে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায় এবং এরপর আর সেই উচ্চতায় পৌঁছায়নি। সোমবার প্রায় ৪৩ মাস পর গ্রস রিজার্ভ ৩৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল। বাংলাদেশ ব্যাংক দুটি তথ্য প্রকাশ করে থাকে — মোট সঞ্চয় (গ্রস হিসাব) এবং আইএমএফ-এর পদ্ধতিতে ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ (বিপিএম৬)। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে রিজার্ভ কমতে কমতে ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে এসেছিল, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছিল। রিজার্ভের প্রধান দুটি উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। রপ্তানি আয় কমলেও রেমিটেন্সে উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে।