সব সংবাদ
স্বাস্থ্য

ঢাকা মেডিকেলে দালাল চক্রের রোগী পাচার: নামসর্বস্ব ক্লিনিকে সর্বস্ব হারাচ্ছে অসহায় পরিবার

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় রোগীদের টার্গেট করে গড়ে উঠেছে ৮-১০টি শক্তিশালী দালাল চক্র। আইসিইউ ও এনআইসিইউ সংকটকে পুঁজি করে তারা রোগীদের বিভিন্ন নামসর্বস্ব বেসরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নিচ্ছে এবং মোটা অঙ্কের বিলের ফাঁদে ফেলে হাজারও পরিবারকে নিঃস্ব করছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক সক্রিয় দালাল চক্র। হাসপাতালের শয্যা, আইসিইউ ও এনআইসিইউ সংকট এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনকে পুঁজি করে চক্রগুলো রোগীদের নানা প্রলোভন ও আশ্বাস দিয়ে ঢাকার অলিগলিতে থাকা বিভিন্ন নামসর্বস্ব বেসরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নিচ্ছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা অসহায় রোগী ও স্বজনদের বিভ্রান্ত করে তারা ঢাকার বিভিন্ন নামসর্বস্ব বেসরকারি হাসপাতালে সরিয়ে নিচ্ছে। চিকিৎসা ব্যয়ের পাহাড় ও জিম্মিদশার শিকার হয়ে নিঃস্ব হচ্ছে হাজারও পরিবার। এসব হাসপাতালে চিকিৎসার নামে বাড়ছে ব্যয়ের পাহাড়। অনেক ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা না পাওয়ার ভুক্তভোগী মানুষের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর শ্যামলীর একটি ক্লিনিকে অক্সিজেন গ্যাস লিকেজের ঘটনায় এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। খাতা-কলমে ২০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো সাধারণ বেড নেই। এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ মিলিয়ে ১০টি বেড নিয়ে চলছে পুরো বাণিজ্য। সেখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের অনেকেই শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে দালালদের মাধ্যমে এসেছেন বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢামেক থেকে নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাচার করতে পারলে চক্রটি রোগীপ্রতি ১৪ থেকে ১৬ হাজার টাকা কমিশন পায়। এই অর্থ ট্রলিম্যান, আয়া-ওয়ার্ডবয়, দালাল ও অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট ধাপে ভাগ হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমাদের এখানে প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০টি সিজার হয়। সিজারের পর নবজাতকদের এনআইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের যে পরিমাণ এনআইসিইউ আছে তাতে কোনোভাবেই রোগী সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকায় জামিনে বের হয়ে কয়েক দিনের মধ্যেই তারা আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষদের অনেকেই সচেতনতা, শিক্ষা, সামাজিক, শারীরিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সহজেই বিভ্রান্ত হন। আর এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে শহরের চতুর দালালরা রোগী ও স্বজনদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন।