৬৪ সংশোধনীসহ অর্থ বিল পাস, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি
জাতীয় সংসদে ২০২৬ সালের অর্থ বিল পাস হয়েছে। এতে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিলটিতে মোট ৬৪টি সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের জন্য আনা অর্থ বিল, ২০২৬ সোমবার পাস হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি পাসের প্রস্তাব তুললে সংসদে কণ্ঠভোটে তা গৃহীত হয়। এর আগে বিলটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। কয়েকজন সংসদ সদস্য জনমত যাচাইয়ের দাবি জানান। পাবনা-১ আসনের মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, বাজেট প্রণয়নে জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন ছিল। তিনি কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নিয়ে জনগণের উদ্বেগের কথা তুলে বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বিলটির বিষয়ে যথেষ্ট পর্যালোচনা হয়েছে, তাই জনমত যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই। পরে জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব ভোটে নাকচ হয়ে যায়। বিলটি বিবেচনার জন্য গৃহীত হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের ৬৪টি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এসব সংশোধনীতে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজের আয়ের ওপর করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। কোম্পানি করহারের কাঠামোতেও পরিবর্তন আসেছে। পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। ব্যাংক, বীমা ও ফাইন্যান্স কোম্পানির জন্য করহার যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারক কোম্পানি ও মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য করহার ৪৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবসায় উৎসে কর কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। দ্রুত রিটার্ন দাখিলে ৫ শতাংশ প্রণোদনা এবং দেরিতে রিটার্নে অতিরিক্ত কর আরোপের বিধান করা হয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে কর অব্যাহতির আওতায় আনা হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধী মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য কর অব্যাহতির সুবিধা দেওয়া হয়েছে।