সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা শুরু
মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য। এর আগে উভয় দেশ ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বর্ধিতকরণে সম্মত হয়েছিল। তবে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) লেবাননে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করেছে।
মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনার জন্য। সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র বিভাগের বিবৃতি অনুযায়ী, আলোচনা রোববার সুইস পর্বতরিসর্ট বুয়েরগেনস্টকে শুরু হওয়ার কথা ছিল।
এর আগে এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি বর্ধিতকরণে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু শনিবার ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) লেবাননে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই জলপথে চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ইরানি প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও সুইজারল্যান্ডে পৌঁছেছেন।
ভ্যান্স যাত্রার আগে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজসে সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করছেন পারমাণবিক ইস্যু এবং লেবানন যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি হবে। আলোচনা কয়েক দিন চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
তবে চুক্তি এready চাপের মধ্যে পড়েছে। ইসরাইল শনিবার লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং দশকরা মানুষকে হত্যা করেছে। ইরানের আইআরজিসি এই হামলাকে উদ্ধৃত করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, শনিবার ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালী দিয়ে যাত্রা করেছে, যার মধ্যে ১৭ মিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে যাচ্ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বলেছেন, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় বা পরে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাত্রার জন্য কোনো টোল নেওয়া হবে না। তবে শান্তি চুক্তি না হলে মধ্যপ্রাচ্যের 'প্রহরী' হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র টোল আদায় করতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসজতাই বলেছেন, ইরানকে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি নিয়ে সতর্ক থাকা উচিত, কারণ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ইরানের শত্রুদের চেয়ে বেশি তার মিত্রদের সেবা দেয়।