সব সংবাদ
জাতীয়

লালমনিরহাট-কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, দুধকুমার ২৩ সেমি ওপরে

কুড়িগ্রামে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমা ২৩ সেমি ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী ২-৩ দিনে ধরলা তীরবর্তী এলাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমা ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি গতকাল রোববার রাত পর্যন্ত বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে থাকলেও আজ সকালে কমে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় তিস্তা ও দুধকুমার তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা কাটেনি। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই জেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী নিম্নভূমি প্লাবিত হয়েছে। অনেক এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। ভাঙনের ঝুঁকিও বেড়েছে। তিস্তার তীব্র স্রোতে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়েছে, যার ফলে অন্তত তিন হাজার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে গতকাল সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত নদীর পানি বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। মাত্র ৯ ঘণ্টার ব্যবধানে পানি ৯ সেন্টিমিটার কমলেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, গতকাল দুপুর থেকে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং সন্ধ্যায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপ সামাল দিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে ধরলা তীরবর্তী এলাকাতেও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, দুধকুমার নদের পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। যদিও জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণের কারণে সেগুলোর পানিও দ্রুত বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে এবং কৃষকরা আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান জানান, বন্যাকবলিত পরিবারের জন্য ২২০ মেট্রিক টন চাল এবং ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজীর রহমান জানান, জেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ৪০০ মেট্রিক টন চাল মজুত রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েকদিন নদ-নদীর পানির পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তিস্তা ও দুধকুমার তীরবর্তী এলাকায় বন্যার বিস্তার ঘটতে পারে।