কোটি কোটি টাকা ঢালেও ব্যর্থ মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তি! বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বেই বিদায়
সৌদি আরব ও কাতার- এই দুই মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দেশ বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করলেও চলমান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক সৌদি আরব গ্রুপের তলানিতে থাকল, আয়োজক কাতারও পারেনি গ্রুপ পর্ব পেরোতে।
ফুটবল পরাশক্তি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর মধ্যপ্রাচ্যের ধনী দুই দেশ সৌদি আরব ও কাতার। গেল কয়েক দশকে অবকাঠামো আর বিশ্ব ফুটবলের নামী তারকাদের পেছনে কোটি কোটি ডলার ঢেলেছে তারা। কিন্তু কাঁড়ি কাঁড়ি টাকাও যে বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, চলমান বিশ্বকাপ তা আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। ব্যর্থতায় টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে দেশ দুটিকে।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ সৌদি আরব। গ্রুপ 'এইচ'-এর তলানিতে থেকে বিদায় নিয়েছে তারা। তাদের গ্রুপে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন ও উরুগুয়ের পাশাপাশি আরও ছিল মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম ক্ষুদ্র এই দেশ তিন ম্যাচে তিন ড্র'য়ে গ্রুপ রানার্স-আপ হয়ে প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বের টিকিট কেটে ইতিহাস গড়েছে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব পার হতে না পারার সম্পূর্ণ দায় নিজের কাঁধে নিয়ে পদত্যাগ করেছেন সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইয়াসের আল-মিশহাল।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, নেইমার ও করিম বেনজেমার মতো ফুটবলের মেগা তারকাদের নিজেদের ঘরোয়া লিগে এনে ক্লাব ফুটবলের বাজার নাড়িয়ে দিয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু ৮ বছর পরের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশটিকে বৈশ্বিক ফুটবলে যে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, এবারের টুর্নামেন্ট সেটি মনে করিয়ে দিলো যেন।
২০২২ বিশ্বকাপের স্বাগতিক কাতারও মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেই বাড়ির পথ ধরেছে। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট অর্জনের নজির গড়লেও গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি হুলেন লোপেতেগির দল। অথচ সাবেক স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব সামলানো হুলেন লোপেতেগিকে নিয়োগ দেওয়াই বলে দেয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে দেশটি কতটা বিনিয়োগ করেছে।
২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আটটি অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণে শত শত কোটি ডলার ব্যয়ের চার বছরের মাথায় গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হওয়া কাতারের জন্য বড় হতাশাই। কাতার বড় তারকাদের পেছনে উন্মাদের মতো না ছুটলেও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে বিশ্বমানের একাডেমি ও ফুটবলার তৈরি করেছিল, যার ফলে তারা টানা দুবার এশিয়ান কাপ জয়ের গৌরব অর্জন করে। কিন্তু সেই দাপট বিশ্বকাপের মঞ্চে কাজে আসেনি।
এতকিছুর পরও হাল ছাড়ছে না সৌদি আরব। ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্ব পাওয়ার পর দেশটি এখন নিজেদের ফুটবলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়। তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরে নতুন খাত গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে অন্যতম হাতিয়ার বানিয়েছে সৌদি আরব। ২০৩৪ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন সৌদি আরবের মূল জোর স্থানীয় প্রতিভা তৈরিতে। বিদেশি তারকা আনার গতি কমেছে, নেইমারের মতো কয়েকজন বড় নাম ইতোমধ্যে লিগ ছেড়েও গেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ ইরানও বিশ্বকাপে সাফল্য পায়নি। ১৯৭৮ সাল থেকে বিশ্বকাপ খেললেও এখনো গ্রুপ পর্ব পেরোতে পারেনি ইরান। আফ্রিকার ১০টি দলের মধ্যে ৯টি দলই যেখানে শেষ ৩২-এ কোয়ালিফাই করে ইতিহাস গড়েছে, সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিশ্বমঞ্চে নিজেদের ছাপ রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ। বিপুল অর্থ আর আধুনিক অবকাঠামো থাকলেও ফুটবলের দুনিয়ায় এখনো বেশ আনকোড়াই তারা।