সব সংবাদ
খেলা

আনচেলত্তির জাদুতে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন, নেইমারের প্রত্যাবর্তনে আশার আলো

২০০২ সালের পর বিশ্বকাপ জয় অপেক্ষায় থাকা ব্রাজিল এবার কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে জয়ের স্বপ্ন দেখছে। গ্রুপপর্বে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলে ফেরা নেইমারের উপস্থিতি দলের আশা বাড়িয়ে দিয়েছে। আজ রাতে শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে সেলেসাওরা।

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষা ২৪ বছরের। ২০০২ সালের পর থেকে কোনো খেলোয়াড়ই চ্যাম্পিয়ন আইকন হয়ে উঠতে পারেননি। এবার দলে নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের মতো তারকারা আশা দেখাচ্ছেন। তবে দলের গন্তব্য নির্ধারিত হবে কার্লো আনচেলত্তির কৌশলে।

ইতালিয়ান এই কোচ ২০২৫ সালের জুনে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেন। যদিও বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তার হাতে মাত্র চারটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ ছিল, যার মধ্যে দুটি ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতার। ব্রাজিল ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছিল। তাই বাছাইপর্ব শেষ হওয়ার পর সাতটি প্রীতি ম্যাচে তার পরিকল্পনা গড়ে ওঠে।

রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে নিয়ে অভিযোগ ছিল— ক্লাবে ভালো পারফরম্যান্স জাতীয় দলে দেখাতে পারছিলেন না। কিন্তু আনচেলত্তি বলেছিলেন এবারের বিশ্বকাপটা ভিনির হবে। তার কথার প্রমাণ মিলেছে গ্রুপপর্বের তিন ম্যাচে— ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি।

মিডফিল্ডে ব্রুনো গুইমারেস আনচেলত্তির আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন। তিনি বল রিকভারি, ডুয়েল জেতা এবং তিনটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। ক্যাসেমিরো ও লুকাস পাকেতাও ভালো খেলছেন। আক্রমণভাগে রদ্রিগো ও এস্তেভাও অনুপস্থিত থাকলেও, রায়ানের মতো তরুণরা সুযোগ পাচ্ছেন।

রক্ষণে এডার মিলিটাও অনুপস্থিত থাকলেও, গ্যাব্রিয়েল মাঘালায়েস, মার্কিনিয়োস, দানিলো ও ডগলাস সান্তোসরা প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার কাজ সামলাচ্ছেন।

সবচেয়ে বড় খবর— ৯৮১ দিন পর জাতীয় দলে ফিরেছেন নেইমার। মাত্র ১৫ মিনিটের উপস্থিতিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি সুযোগ তৈরি করেছেন। জাপানের বিপক্ষে নকআউট ম্যাচে তাকে আরও বেশি সময় দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে আনচেলত্তির বক্তব্যে। ব্রাজিলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা (৭৯ গোল) নেইমার এই বিশ্বকাপে পেলের পাশে নাম তুলতে পারেন দ্বিতীয় ব্রাজিলিয়ান হিসেবে চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করে।

আজ রাত ১১টায় শেষ ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে মাঠে নামবে ব্রাজিল। রদ্রিগো গোয়েস বলেছেন, 'আনচেলত্তি আমাদের কাছে বাবার মতো। কোচ ও মানুষ উভয় দিক থেকেই আমি তাকে অনেক শ্রদ্ধা করি।' রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক কোচ মরিনিয়োও বলেছেন, 'কার্লো পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।'