নারায়ণগঞ্জে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগ, শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত
নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ বার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর, বন্দর, সোনারগাঁও, ফতুল্লা, রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজারে বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জেলায় প্রায় ১৫ হাজার শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোর উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানাগুলো জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে, যার ফলে অতিরিক্ত খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রূপগঞ্জ উপজেলায় প্রায় আড়াই হাজার শিল্পকারখানা রয়েছে যেখানে রেডিমেট পোষাক, প্লাস্টিক, ভোগ্যপণ্য ও ভারী শিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন হয়। গ্রামটেক নিট ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সিনিয়র ম্যানেজার আইয়ুব হোসেন জানান, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানা সচল রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এবং দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে ব্যবসা চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। কাঞ্চন এলাকায় প্রায় ৩৫টি চাদর তৈরির কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। পোল্ট্রি ও ডেইরী খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সোনারগাঁও উপজেলার মেঘনা ও কাঁচপুর শিল্পাঞ্চলে বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে বড় লোকসানের আশঙ্কায় শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮/১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী নুর মোহাম্মদ জানান, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কিছুটা কম হওয়ায় মাঝে মাঝে লোডশেডিং হচ্ছে এবং আশা করা হচ্ছে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।