অর্থ বিল নিয়ে সংসদে তুমুল আলোচনা, বিরোধীদলের নানা প্রশ্ন
জাতীয় সংসদে অর্থ বিল ২০২৬ উপস্থাপনের পর বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বাজেট ঘাটতি, চীনা ঋণ, কর-ভ্যাট, ব্যাংক খাতের দুর্নীতি এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। এছাড়া বিনিয়োগের নতুন শর্ত ও মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা।
সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ বিল ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব তোলেন। এই প্রস্তাবের পর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবও আসে, যা বিলের সাধারণ নীতির আলোচনার সাথে একসঙ্গে হবে বলে জানানো হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ শিক্ষা খাতের উন্নয়নের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে শিক্ষকদের আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি ও বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বিকেন্দ্রীকরণের প্রস্তাব দেন তিনি। রাজশাহী-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারে সতর্কতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, অপচয় থেকে সাবধান থাকতে হবে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের জি এম নজরুল ইসলাম সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ কমানোর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ও বাজারের ওপর চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সিকিউরিটিজ, ইউনিট ফান্ড ও মিউনিসিপাল ফান্ডে বিনিয়োগের নতুন শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার ও দুর্নীতি প্রতিরোধকে জরুরি বলে মন্তব্য করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বাজেটের ঘাটতি ও রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিবছর স্বপ্ন দেখি আর সারা বছর ধরে সেই স্বপ্ন ভঙ্গের ফল ভোগ করতে হয়। তিনি চীনের কাছ থেকে ঋণ বা বিনিয়োগের আশ্বাস পাওয়া গেছে কিনা জানতে চান। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, আয় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সংশোধনী প্রস্তাবে ব্যক্তি করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।