আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে পুলিশের বড় পদক্ষেপ, ৮টিরও বেশি উপকমিটি গঠন
দেশব্যাপী বাড়ছে অপরাধ ও সহিংসতা। এই পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশ সদর দপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির অধীনে আটটিরও বেশি উপকমিটি কাজ করবে।
দেশজুড়ে অপরাধ ও সহিংসতা বাড়ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি উন্নত করতে পুলিশ সদর দপ্তর (পিএইচকিউ) একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। এতে সভাপতি হিসেবে রয়েছেন পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এই কমিটির অধীনে অন্তত আটটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এই উপকমিটিগুলো সংগঠিত অপরাধ, সাইবার অপরাধ ও মাদক ব্যবসা দমনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির কাজ করবে।
পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, উপকমিটিগুলো ইতিমধ্যেই তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা, মাঠপর্যায়ের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধ থেকে শুরু করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে প্রয়োজনীয় কর্মপন্থা নির্ধারণে সুপারিশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এই উপকমিটিগুলোকে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টিও এই কমিটির অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের মে মাসের মধ্যে ঢাকা মহানগরেই অন্তত ৫৯৭টি খুনের মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অপরাধী চক্রগুলোর নিজেদের মধ্যকার এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে। নিহতদের মধ্যে চারজন তালিকাভুক্ত শীর্ষ অপরাধী ছিলেন।
গত তিন মাসে দেশজুড়ে ৯১৫টি খুনের মামলা নথিভুক্ত হয়েছে। ২০২৫ সালে একই সময়ে মামলার সংখ্যা ছিল ৯৯৩, যার মধ্যে ২২৬টি মামলা পুরোনো ঘটনার জেরে দায়ের করা।
সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। গত ১২ জুন রাজধানীর রামপুরা এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান ওরফে কাইল্লা পলাশকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মূল হামলাকারী এখনো পলাতক। এর আগে ২৮ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ হলের কাছে সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন। এ হত্যাকাণ্ডের দেড় মাস পার হলেও এখনো এর কোনো সূত্র বা কারণ খুঁজে পাননি তদন্তকারীরা।
অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলার মূল চ্যালেঞ্জগুলো পর্যালোচনা এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি বৈঠক করেছি আমরা। পেশাদারিত্ব বাড়ানোর জন্য কিছু সুপারিশ তৈরির কাজ করছি। চূড়ান্ত হওয়ার পর তা উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে।
উপকমিটিগুলোর মধ্যে একটি কমিটি দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। আরেকটি কমিটি অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের জনবল বাড়ানোসহ অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে। সাইবার অপরাধ দমনে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের ডিআইজির নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসবাদ এবং উগ্রবাদ মোকাবিলায় পরিস্থিতির অবনতি আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরেকটি কমিটিকে।
ডিজিটাল সেবা চালুর লক্ষ্যে একটি কমিটি স্মার্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম, বডি-ওর্ন ক্যামেরা, অনলাইন জিডি এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ানোর উপায় সুপারিশ করবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশল নির্ধারণে কাজ করবে আরেকটি কমিটি। এছাড়া আরও দুটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে — একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করবে এবং অপরটি কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করবে।