চট্টগ্রামে বাবুর্চি হত্যা: দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় এক বাবুর্চিকে হত্যার দায়ে দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ২০০৯ সালের ঘটনায় ভবনের চতুর্থ তলায় আটকে রেখে হত্যা করা হয়েছিল পলাশ নামে ওই বাবুর্চিকে।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া ডিসি রোড এলাকায় এক বাবুর্চিকে হত্যার দায়ে দুই জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. তাজউল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর জানান, দুই আসামির বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুই আসামি হলেন আইয়ুব আলী ওরফে বাবুল (৪৪ বছর) এবং মাহমুদুল হাসান সোহেল (৩৭ বছর)। আইয়ুব আলী নোয়াখালীর সেনবাগ থানার পূর্ব লালপুর গ্রামের মৃত সরদার আলীর ছেলে এবং মাহমুদুল হাসান সোহেল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থানার দক্ষিণ খান পুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে। ঘটনার সময় আইয়ুব আলী চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া ডিসি রোডে এবং মাহমুদুল হাসান সোহেল বাদুরতলা জঙ্গি শাহ মাজার রোডের বাসিন্দা ছিলেন। নিহত পলাশ নেত্রকোণার আটপাড়া থানার আবদুল হেকিমের ছেলে। তিনি নগরীর পাঁচলাইশ থানার চকবাজারা এলাকায় কফি ম্যাক্স নামের মিনি চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, পলাশ তার চাচাত ভাই মামুনসহ নগরীর ডিসি রোডে একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। ঘটনার এক বছর আগে পলাশের ফুফাতো ভাই নুরুল আমিন নেত্রকোণা থেকে চট্টগ্রামে এলে তাকে একই রেস্টুরেন্টে থালা-বাসন ধোয়ার কাজ নিয়ে দেন পলাশ। আসামি আইয়ুব আলী ওই রেস্টুরেন্টে টেবিল বয় হিসেবে কাজ করতেন। সেখানে নুরুল আমিনের সঙ্গে আইয়ুব আলীর পরিচয় হয়। পরে আইয়ুব আলী ও নুরুল আমিন কফি ম্যাক্স রেস্টুরেন্টে চাকরি ছেড়ে দিয়ে অন্য দোকানে কাজ নেন। এ নিয়ে পলাশের সঙ্গে আইয়ুব আলীর মনোমালিন্য হয়। ২০০৯ সালের ২৭ অগাস্ট নুরুল আমিন চাকরি ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে চলে যায়। ওই ঘটনার জন্য পলাশকে দায়ী করে আইয়ুব আলী। সেদিন রাতে পলাশ ও মামুন নিজেদের ডিসি রোডের বাসায় ফিরলে আইয়ুব আলী ও মাহমুদুল হাসান সোহেল 'কথা আছে' বলে পলাশ ও মামুনকে বাসা থেকে ডেকে বের করে। নগরীর ডিসি রোডের চাঁন মিয়া মুন্সী লেইনে একটি ভবনের সামনে পৌঁছালে মামুনকে ওই ভবনের নিচে রেখে পলাশকে নিয়ে আইয়ুব আলী ও মাহমুদুল হাসান সোহেল ভবনটির উপরে উঠে যায়। প্রায় আধ ঘণ্টা পরও পলাশ না ফিরলে চাচাত ভাই মামুন তাকে ফোন করলে আইয়ুব আলী কলটি রিসিভ করে কিছুক্ষণ পর আবার কল করতে বলে। এর কিছুক্ষণ পর পলাশ মামুনকে ফোন করে জানান, তাকে ওই ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। এরপর মামুন লোকজন ডেকে নিয়ে ওই ভবনের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে গেলে দেখতে পান, আইয়ুব আলী নিচে নেমে যাচ্ছেন। তখন পলাশ কোথায় আছে জানতে চাইলে চতুর্থ তলায় আছে জানিয়ে আইয়ুব নেমে চলে যান। চতুর্থ তলায় পৌঁছে একটি কক্ষে তালা দেখতে পেয়ে মামুন ও তার সাথে থাকা লোকজন সেখানে মাহমুদুল হাসান সোহেলকে দেখে তাকে আটক করে। ওই কক্ষের তালা খোলার পর তারা পলাশকে রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় দেখতে পায়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সম্রাট বাদী হয়ে নগরীর বাকলিয়া থানায় আইয়ুব আলী ও মাহমুদুল হাসান সোহেলকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০১২ সালের ১২ নভেম্বর চট্টগ্রামের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে সোমবার রায় ঘোষণা করা হলো।