সংসদে সময় বণ্টন নিয়ে জামায়াতের অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুই ঘণ্টা বক্তব্য দেওয়ার অভিশাপ
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সময় নির্ধারণে নজিরবিহীন বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছে জামায়াত ইসলামী। অভিযোগ অনুযায়ী, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় কেটে নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্ধারিত ৪০ মিনিটের পরিবর্তে প্রায় দেড় ঘণ্টা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের সদস্যরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছেন।
গতকাল রাতে জাতীয় সংসদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান এবং জোটের প্রবীণ নেতৃবৃন্দ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। নাজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, গতকাল সংসদে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বক্তব্য রাখার নির্ধারিত সময় থেকে ৫ মিনিট করে কেটে নেওয়া হয়েছে এবং মাত্র তিনজন সংসদ সদস্য বক্তব্য রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন। অথচ সরকারদলীয় সদস্যদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র দেখা গেছে। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দিতে ওঠেন, তখন তাঁর নির্ধারিত ৪০ মিনিট সময়কে বাড়িয়ে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। রাত ১০টা পার হয়ে যাওয়ার পরও সরকারি দলের সদস্যদের নিয়ম বহির্ভূতভাবে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংসদে বিল উত্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নাজিবুর রহমান মোমেন। তিনি বলেন, কার্যপ্রণালী বিধির ৭৭ বিধি লঙ্ঘন করে বিলগুলোকে সংসদে আনা হচ্ছে এবং সংসদ সদস্যদের বিলগুলো পড়ার এবং আপত্তি উত্থাপন করার জন্য পর্যাপ্ত সময় ও কাগজপত্র দেওয়া হচ্ছে না। পয়েন্ট অফ অর্ডারে বিরোধী দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে কথা বলতে না দেওয়ার ঘটনাটিকেও ওয়াকআউট করার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। জোটের একজন প্রবীণ সংসদ সদস্য গতকালকের ঘটনাকে দেশের পার্লামেন্টের ইতিহাসে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ও উদ্ধতপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও সংসদের সময় কঠোরভাবে মেইনটেইন করে বক্তব্য রাখতেন। তিনি জানান, তারা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে জনগণের কথা বলতে এসেছেন এবং সংসদে যদি তাদের ন্যায্য সুযোগ না দেওয়া হয়, তবে সেখানে থাকার কোনো অর্থ হয় না।