সব সংবাদ
অন্যান্য

বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক ভাস্কর চৌধুরী আর নেই

জনপ্রিয় কবি ও কথাসাহিত্যিক ভাস্কর চৌধুরী (৭৩) ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার রাতে মারা গেছেন। তিনি 'আমার বন্ধু নিরঞ্জন' কাব্যগ্রন্থের জন্য বিশেষ পরিচিত ছিলেন। তার প্রথম জানাজা সোমবার বাদ ফজর ঢাকার উত্তর আদাবরে এবং দ্বিতীয় জানাজা তার গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুরে অনুষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয় কবি ও কথাসাহিত্যিক ভাস্কর চৌধুরী আর নেই। রোববার রাত পৌনে ১১টায় ঢাকার হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি 'আমার বন্ধু নিরঞ্জন' খ্যাত কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন।

সোমবার বাদ ফজর ঢাকার উত্তর আদাবরের ঢাকা হাউজিং জামে মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। প্রয়াতের ছোট ভাই চক্ষু বিশেষজ্ঞ জিয়াউল আহসান জাকারিয়া মুক্তা জানান, এদিন বাদ আসর গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, অসুস্থবোধ করায় ভাস্কর চৌধুরীকে গত ১৫ জুন রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে তার খাদ্যনালিতে টিউমার ধরা পড়ে। পাশাপাশি ফুসফুসে পানি জমা এবং দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।

ভাস্কর চৌধুরী ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ভবানীপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার আনুষ্ঠানিক নাম আশরাফুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সাহিত্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি অব্যাহত রাখেন তিনি।

১৯৮৪ সালে প্রথম গল্পগ্রন্থ 'রক্তপাতের ব্যাকরণ' প্রকাশের মধ্য দিয়ে সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন ভাস্কর। গল্প, কবিতা, উপন্যাস মিলিয়ে তার ৪০টিরও মতো বই রয়েছে। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটি, মানুষ, লোকজ সংস্কৃতি এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রাম তার সাহিত্যকর্মের প্রধান উপজীব্য ছিল। সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর জীবন, সংস্কৃতি ও সংগ্রাম নিয়ে রচিত তার মহাকাব্যিক উপন্যাস 'ধনসা মাতি ও তার জীবনবৃক্ষ' প্রশংসা কুড়ায়। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক তার স্মৃতিকথা 'মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ' প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালে।

২০১২ সালে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ 'নিরঞ্জন আমার বন্ধুর নাম' তুমুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় ভাস্কর চৌধুরীকে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।