সব সংবাদ
খেলা

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব: প্রযুক্তি ও সমর্থকদের উৎসবে নতুন যুগের ফুটবল

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিযোগিতামূলক লড়াই, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উপচে পড়া দর্শক সমর্থন এবারের আসরকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখালেও স্পেন ও পর্তুগাল হতাশ করেছে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষে এখন নকআউট পর্ব শুরু হয়ে গেছে। এবারের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই ছিল প্রায় সমানে-সমান। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস বা কানাডার মতো শক্তিশালী দলও সহজে জয় পায়নি। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে প্রতিটি দল এখন প্রতিপক্ষের বিশ্লেষণ করে খেলে, যা ছোট দলগুলোকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। কৌশলগতভাবে ডাবল লাইন ডিফেন্ডার ভাঙা কঠিন হয়ে পড়ায় এখন উইং বা ফ্ল্যাঙ্ক থেকে ক্রস করে গোল আসছে বেশি। তবে মেসি বা এমবাপ্পের মতো তারকারা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে যেকোনো জায়গা থেকে গোল করছেন। আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স সবচেয়ে ধারাবাহিক দল। আর্জেন্টিনার বেঞ্চে এত গভীরতা আছে যে মূল একাদশে পরিবর্তন আনলেও খেলার মান কমে না। ব্রাজিল কিছুটা ছন্দ পেলেও প্রথম ম্যাচে হতাশ করেছে। সবচেয়ে হতাশ করেছে স্পেন ও পর্তুগাল। পর্তুগালের শক্তিশালী মিডফিল্ড প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। জার্মানি বড় জয়ে শুরু করলেও পরের ম্যাচে খেলার মান কমেছে। ইংল্যান্ড নতুন স্টাইলে মানিয়ে নিতে লড়ছে। মরক্কো গতবারের মতোই ভালো খেলছে। এশিয়া থেকে জাপান নজর কেড়েছে। দর্শক উপস্থিতি সবচেয়ে মুগ্ধ করেছে। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সমর্থকরা মাঠে এসে দলকে সমর্থন দিচ্ছেন, যা দেখার মতো। নতুন কিছু দিকও দেখা গেছে। জাতীয় সংগীতের সময় পুরো স্কোয়াড এখন মাঠে থাকে, যা দলের ঐক্য বাড়ায়। হাইড্রেশন ব্রেক খেলার গতি নষ্ট করছে বলে মনে করছেন অনেকে। ভিএআর এখন অত্যন্ত জরুরি, এতে কিছুটা সময় লাগলেও ভুল সিদ্ধান্ত এড়ানো সম্ভব হচ্ছে। নারী রেফারিদের উপস্থিতিও একটি ইতিবাচক দিক। আধুনিক ফুটবলে এখন বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত আক্রমণে ওঠার প্রবণতা বেড়েছে। মেসি বা মদরিচের মতো সিনিয়ররা নিচে নেমে রক্ষণে সাহায্য করছেন। নতুন আইনের কারণে খেলোড়দের চোটের হারও কমেছে। মেসি ও এমবাপ্পে আগের চেয়ে বেশি কার্যকর হচ্ছেন। তবে স্পেনের তরুণ লামিনে ইয়ামাল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। গোলকিপিংয়ে কিছু অবাক করা পারফরম্যান্স দেখা গেছে। এবারের বলের গতি ও সুইংয়ের কারণে গোলের সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।