আদ-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত, সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ
জাতীয় সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব ও চরম অবহেলায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে, হাসপাতাল বন্ধ করার জন্য নয়।
২৯ জুন ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ছয়টি শিশু যখন বাঁচার জন্য ছটফট করছিল, তখন সেখানে কোনো অক্সিজেন ছিল না। এসি বন্ধ, জানালা-দরজা বন্ধ ছিল। ১৬-১৭ জন মা কাঁদছিলেন এবং ছোটাছুটি করছিলেন, কিন্তু একজন চিকিৎসকও আসেননি। কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রভাবে শিশুগুলো মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মন্ত্রী বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় ইউনাইটেড হাসপাতাল বা বার্ন ইউনিটের অগ্নিকাণ্ড ছিল দুর্ঘটনা, কিন্তু আদ-দ্বীন হাসপাতালের ঘটনায় অবহেলার বিষয়টি সামনে এসেছে। ঘটনার পর হাসপাতালের মালিক ঘটনাস্থলে যাননি। তবে তিনি নিজে পরদিন সেখানে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তারা অবহেলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। লাইসেন্স স্থগিতের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, অনেকেই বলেছেন সেখানে ২০০-২৫০ টাকায় ডায়ালাইসিস হয়, সেটা সত্য। কিন্তু মাথাব্যথা হলে যেমন মাথা কেটে ফেলা যায় না, তেমনি যারা ভুল করেছে তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। হাসপাতালের অনুমোদিত ভবনের একটি অংশে বেকারি চালানো হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বর্জ্য জমে আছে, যা অগ্নিকাণ্ডের বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। মালিকের অবহেলা ও একগুঁয়েমির কারণে পরিচালনা পর্ষদে পরিবর্তন এনে তাঁর স্ত্রীকে প্রধান নির্বাহী করা হয়েছে। সরকার স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আপসহীন থাকবে বলে জানান মন্ত্রী। বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবারের বাজেট শুধু সংখ্যার নয়, গুণগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। গরিব মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে ক্যানসার ও কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমানোর পাশাপাশি নিজস্ব পকেট থেকে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর 'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি' কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।