হামে শিশু মৃত্যুর ভয়াবহ তথ্য: ৩ মাসে ৭১২ শিশুর মৃত্যু, স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন
গত তিন মাসে (১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন) হামে আক্রান্ত হয়ে ৭১২ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাতজন শিশু মারা যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর মৃতের সংখ্যা কম দেখাতে 'হাম উপসর্গে মৃত্যু' শব্দটি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত তিন মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে ৭১২ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৩ জন এবং সন্দেহজনক হামে ৬১৯ শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় সাতজন শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, এ সময়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯৯ হাজার ২০৭ এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৭১০। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮২ হাজার ৮৪৪ জন, যাদের মধ্যে ৭৯ হাজার ১৫২ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। স্বাস্থ্য অধিদফতর মৃতের সংখ্যা কম দেখাতে 'হাম উপসর্গে মৃত্যু' শব্দটি ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু একটি সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব নয় বরং টিকাদান, রোগ শনাক্তকরণ, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার এবং জনসচেতনতার মতো একাধিক বিষয়ের সমন্বিত চ্যালেঞ্জের প্রতিফলন। স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল এবং এরপর কোনো সরকারই টিকা দেয়নি।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত এর লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়। হামের কারণে শিশুদের মারাত্মক ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কানে সংক্রমণ এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বেশির ভাগ মৃত্যুর ঘটনা এই জটিলতার কারণেই ঘটে।