সব সংবাদ
রাজনীতি

এ বছরই দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা, ভারত থেকে ঘোষণা

ভারতে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে এ বছরই দেশে ফেরার কথা বলেছেন। তিনি আদালতের রায়কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

ভারতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরই বাংলাদেশে ফেরার কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন তিনি। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতেও। একই বছরের মে মাসে আওয়ামী লীগের সব ধরনের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনও স্থগিত করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের দেশে ফেরা ছাড়াও বাংলাদেশে তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা, নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, "আমার দেশে ফেরাটা কোনো ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার নয়; এটি অনেক বড় বিষয় যেমন- বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে জড়িত।"

তিনি আরও বলেন, "আমার বিরুদ্ধে যে রায় দেওয়া হয়েছে তা কোনো বিচার নয়। এটি একটি অবৈধ, অসাংবিধানিক এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রক্রিয়ার অংশ। আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বহীন করতে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে।"

১৯৭৫ সালে বাবা-মা, ভাইসহ প্রায় পুরো পরিবারকে হারানোসহ নিজের ওপর বিভিন্ন সময় হামলা ও হত্যা চেষ্টার কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, "আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, সব বাধা এবং ষড়যন্ত্র অতিক্রম করে আমি এ বছরই দেশে ফিরব।"

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে 'অবৈধ, অসাংবিধানিক ও দখলদার' আখ্যা দিয়ে শেখ হাসিনা দাবি করেন, "এখন একটি সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অধীনে মানুষ নিজেদের চোখে বাস্তব পরিস্থিতি দেখছে। সেখানে কোনো গণতন্ত্র নেই। আইনের শাসন নেই। কোনো নিরাপত্তা নেই। অর্থনীতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংখ্যালঘুরা আক্রমণের শিকার হচ্ছে। চরমপন্থার বিস্তার ঘটছে।"

তাকে পলাতক দেখিয়ে এসব মামলায় বিচার শুরু হয়েছে। তাকে ফেরাতে ভারত সরকারকে চিঠিও দিয়েছে সরকার। তবে দিল্লি এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেনি।

দলের সাংগঠনিক শক্তির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিটি অলিগলি নিজের হাতের তালুর মত চেনে। আমরা দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছি।"

সম্প্রতি বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নির্যাতন নিয়ে প্রশ্নে গোটা বিষয়কে বেদনাদায়ক ও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ জন্য 'ক্ষমতাদখলকারী' সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দায়ি করেন তিনি।

ভারতে অবস্থানকালে কীভাবে সময় পার করছেন, ছেলে-মেয়ের সঙ্গে প্রায়ই দেখা হয় কি না সে প্রশ্নেরও জবাব দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী। বলেন, "পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার স্বাভাবিক যোগাযোগ রয়েছে। কিন্তু আমার মন সবসময় বাংলাদেশে পড়ে থাকে; যে মাটিতে আমার বাবা শায়িত আছেন।"