সব সংবাদ
খেলা

বিশ্বকাপে পেনাল্টি শুটআউট জেতার বিজ্ঞান: কোন শট কোথায় সফল হয়

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৩৫টি টাইব্রেকারে ৩২০টি শট নেওয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফরোয়ার্ডদের সাফল্য ৭৫%, যেখানে ডান দিকে শট নিলে গোলের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার সাথে সাথে ফিরে আসে পেনাল্টি শুটআউটের উত্তেজনা। এবারের টুর্নামেন্টে যোগ হয়েছে অতিরিক্ত একটি রাউন্ড—‘লাস্ট ৩২’। ফলে সর্বশেষ আসরের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ১৯৮২ বিশ্বকাপ থেকে এ পর্যন্ত ৩৫টি টাইব্রেকারে ৩২০টি শট নেওয়া হয়েছে। বিবিসি স্পোর্ট ও অপ্টার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি টাইব্রেকার জিতেছে আর্জেন্টিনা—ছয়টি জয়ের বিপরীতে মাত্র একটি হার। ক্রোয়েশিয়া ও জার্মানি সমান চারটি করে জিতেছে এবং কখনো হারেনি। ব্রাজিল তিনটি জয়ের পাশাপাশি দুটি হার সহ্য করেছে। টাইব্রেকারে সবচেয়ে বেশি শট মিসের রেকর্ড এখন স্পেনের দখলে—মোট নয়টি। এর আগে ইংল্যান্ডের ছিল আটটি। সবচেয়ে সফল দুই খেলোয়াড় হলেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও ক্রোয়েশিয়ার লুকা মদরিচ—দুজনেই তিনটি ভিন্ন টাইব্রেকারে শতভাগ সফল। গোলরক্ষকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেভ করার রেকর্ড ক্রোয়েশিয়ার দানিয়েল সুবাসিচ ও দমিনিক লিভাকোভিচের—দুজনেই চারটি করে পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন। পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম শট নেওয়া খেলোয়াড়দের সাফল্য সবচেয়ে বেশি—৭২.৯ শতাংশ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শটে এই হার কিছুটা কমে ৭১.৫ শতাংশ হলেও পঞ্চম শটে আবার বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬.৭ শতাংশে। শট নেওয়ার দিক নিয়েও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—ডান দিকে নিলে ৭২.৪ শতাংশ এবং বাঁ দিকে নিলে ৭১.১ শতাংশ গোল হয়। কিন্তু মাঝ বরাবর নিলে সাফল্যের হার মাত্র ৬১.৬ শতাংশ! এর কারণ, মাঝ বরাবর নেওয়া শটের প্রায় ১৯.২ শতাংশ পোস্টে লেগে প্রতিহত হয়। পজিশন অনুযায়ী, ফরোয়ার্ডদের সাফল্য সর্বোচ্চ—৭৫ শতাংশ। মিডফিল্ডারদের ৬৭.৯ শতাংশ এবং ডিফেন্ডারদের ৬৫ শতাংশ। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত কোনো গোলরক্ষককে পেনাল্টি নিতে দেখা যায়নি।