সব সংবাদ
অর্থনীতি

ব্যাংকে জমা বাড়ছে, বেসরকারি ঋণে মন্থরতা

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে চলতি অর্থবছরের এপ্রিল শেষে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র উঠে এসেছে। ব্যাংক আমানত ১১.৯৮ শতাংশ বেড়ে ২০.৩৯ লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪.৭৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পাক্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের এপ্রিল শেষে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট আমানত বেড়ে ২০ লাখ ৩৮ হাজার ৭৭৪ কোটি ৮০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১১.৯৮ শতাংশ বেশি। মূলত মেয়াদি আমানত বৃদ্ধির কারণে এই ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি এসেছে। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে আমানত বেড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

তবে এই ইতিহাসের বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে মন্থরতা দেখা গেছে। এপ্রিল শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৫২৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ৪.৭৫ শতাংশ বেশি। উচ্চ সুদের হার, কঠোর মুদ্রানীতি এবং ব্যবসায়ীদের সতর্ক বিনিয়োগ প্রবণতার কারণে ঋণ চাহিদা কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণ ব্যাপক হারে বেড়েছে। সরকারি খাতে ঋণ এক বছরে ২৬.২৪ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ৪১ হাজার ৯৬৬ কোটি ৭০ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ মে পর্যন্ত সরকার ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে নিট ১ লাখ ৫ হাজার ৯৩৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

ব্রড মানির পরিমাণ এপ্রিল শেষে দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ কোটি ৪০ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.৪৫ শতাংশ বেশি।

মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে রেপো সুদহার ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। ১৫ মে পর্যন্ত কলমানি বাজারে গড় সুদের হার ছিল ৯.৯৯ শতাংশ।

বৈদেশিক খাতে প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রেখেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দেশে ৩১ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২০.১৩ শতাংশ বেশি। এই শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে চলতি হিসাবের ঘাটতি কমে ১.০৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ১৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি খাতে উদ্বেগ দেখা গেছে। জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে দেশের মোট রপ্তানি ১.০৬ শতাংশ কমে ৩৯ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে আমদানি বেড়েছে ৫.৯২ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চাপ অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.০৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা মার্চের ৮.৭১ শতাংশ থেকে বেশি। তবে ১২ মাসের গড় মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৫৯ শতাংশে নেমেছে, যা এক বছর আগে ছিল ১০.২১ শতাংশ।

মূল প্রতিবেদন (Reference): ব্যাংক আমানত ১১.৯৮ শতাংশ বেড়েছে — Daily Inqilab