স্যাটেলাইটের সদৃশ! সৌরশক্তি চালিত ড্রোন-বেলুনের সফল পরীক্ষা আমেরিকার
মার্কিন সেনাবাহিনী গুয়ামে সৌরশক্তি চালিত একটি উচ্চ-উচ্চতার ড্রোন এবং বিশেষ বেলুনের যৌগিক সিস্টেমের সফল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই প্রযুক্তি স্যাটেলাইটের বিকল্প হিসেবে কাজ করতে সক্ষম এবং চীনের বর্ধমান সামরিক শক্তির মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনীকে নতুন সুবিধা দেবে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্যাটেলাইট এবং প্রচলিত যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরতা কমাতে মার্কিন সেনাবাহিনী এক যুগান্তকারী সামরিক পরীক্ষা চালিয়েছে। গত ২৪ জুন গুয়ামের ওরোতে এয়ারফিল্ডে মার্কিন সেনাবাহিনীর '৩য় মাল্টি-ডোমেন টাস্ক ফোর্স' সৌরশক্তি চালিত 'ইকারুস অ্যাপোলো আর' নামক স্ট্রাটোস্ফেরিক বিমান সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছে। এই পরীক্ষা পেন্টাগনের 'সিজেএডিসি২' নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা যাচাই এবং 'ভ্যালিয়েন্ট শিল্ড ২০২৬' সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে চালানো হয়।
এই অভিনব প্রযুক্তিতে দুটি ভিন্ন কোম্পানির তৈরি অত্যাধুনিক সিস্টেমকে একসাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। 'অ্যাপোলো আর' লস অ্যাঞ্জেলেস ভিত্তিক অ্যারোস্পেস কোম্পানি 'ইকারুস'-এর তৈরি একটি সৌরশক্তি চালিত ফিক্সড-উইং ড্রোন। এটি দিনের বেলায় সোলার প্যানেল থেকে শক্তি সঞ্চয় করে রাতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে উড়তে পারে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ৬০,০০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় কয়েক সপ্তাহ ধরে উড়তে সক্ষম। 'আরবান স্কাই মাইক্রোবেলুন' ডেনভার ভিত্তিক কোম্পানির তৈরি একটি বিশেষ বেলুন যা মাত্র পাঁচ মিনিটেরও কম সময়ে উৎক্ষেপণ করা যায় এবং এটি ড্রোনটিকে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে নিয়ে যায়।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিশাল জলসীমায় যোগাযোগ ও নজরদারি বজায় রাখা মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রচলিত স্যাটেলাইটগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫৫০ কিলোমিটার উঁচুতে থাকায় একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের ওপর মাত্র ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারে। অন্যদিকে, এই স্ট্রাটোস্ফেরিক ড্রোনগুলো ১৮ থেকে ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে আবহাওয়ার বাধা ও শত্রুসেনার রাডারের নজরদারি এড়িয়ে কাজ করতে পারে। এই ড্রোনগুলো মাত্র ৫ থেকে ১০ মিলিসেকেন্ডের অতি-নিম্ন লেটেন্সিতে সরাসরি সাধারণ যোগাযোগ ডিভাইসে সিগন্যাল পাঠাতে পারে এবং প্রায় ৭,৫০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন কভারেজ দিতে সক্ষম।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ক্রমবর্ধমান শক্তির মোকাবিলা করা। চীন বর্তমানে মার্কিন স্যাটেলাইট জ্যামিং প্রযুক্তি, অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল এবং দূরপাল্লার নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্রের পেছনে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। যুদ্ধজাহাজের ডেক বা যেকোনো সাধারণ মাঠ থেকে নিমেষেই উৎক্ষেপণযোগ্য এই ড্রোন-বেলুন প্রযুক্তি মার্কিন বাহিনীকে এক অনন্য সুবিধা দেবে। স্যাটেলাইট ধ্বংস বা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লেও এই সিস্টেমের মাধ্যমে মার্কিন কমান্ডোরা নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং দ্রুত যোগাযোগ বজায় রাখতে পারবে।