গোপালগঞ্জে শিশু ধর্ষণ: মাদ্রাসার শিক্ষক গ্রেপ্তার
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শিশুটির মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।
গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলায় একটি শিশু ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান (৬০) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ওই এলাকার একটি মাদ্রাসা ও এতিমখানার মোহতামিম (প্রধান) পদে কর্মরত ছিলেন।
শিশুটির মা বাদী হয়ে গত শনিবার কাশিয়ানী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২৫ জুন সকাল পৌনে ১১টার দিকে মাদ্রাসার টিফিন চলাকালীন সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষক শিশুটিকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করেন। এর আগেও একাধিকবার ওই শিক্ষক শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল যে, কাউকে বিষয়টি জানালে তাকে হত্যা করা হবে।
শিশুটির মা জানান, গত ২৬ জুন বিকাল ৩টার দিকে মেয়ে বাথরুমে কান্নাকাটি করে রান্নাঘরে এসে বলে, 'মা, আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাও, আমি খুব কষ্ট পাচ্ছি।' তিনি আরও বলেন, গত তিন মাস ধরে ওই শিক্ষক তার মেয়েকে নির্যাতন করেছে। শিক্ষক হুমকি দিয়েছিল, 'যদি কাউকে কিছু বলিস, তাহলে লাঠি দিয়ে তোর মাথা ফাটিয়ে মেরে মাদ্রাসার পাশের কবরস্থানে পুঁতে দেব।' ভয়ে এতদিন মেয়ে কিছু বলেনি।
কাশিয়ানী থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, শনিবার মামলা দায়ের হওয়ার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই দিনই আসামি মুস্তাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।