সব সংবাদ
খেলা

বিশ্বকাপ ২০২৬: গ্রুপসেরা হয়েও কেন কেউ তৃতীয় দল, কেউ রানার্সআপের মুখোমুখি?

৪৮ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপসেরা দলগুলোর শেষ বত্রিশে প্রতিপক্ষ নির্ধারণ নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে। ফিফা আগেই সম্পূর্ণ নকআউট ব্র্যাকেট ঠিক করে রেখেছিল, যা কোনো লটারি বা পক্ষপাতের ফল নয়।

২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল ১২টি গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলছে। প্রতিটি গ্রুপ থেকে প্রথম দুই দল—মোট ২৪টি—সরাসরি নকআউটে যাচ্ছে। এছাড়া ১২টি গ্রুপের মধ্যে সেরা আটটি তৃতীয় স্থানধারী দলও শেষ বত্রিশে উঠছে। ফলে নকআউটে মোট দল ৩২টি।

এই নতুন ফরম্যাট চালু হওয়ায় অনেকে দেখেছেন যে গ্রুপসেরা হওয়া সত্ত্বেও কিছু দল তৃতীয় স্থানধারী দলের বিপক্ষে খেলছে, আবার কিছু দল খেলছে রানার্সআপের বিপক্ষে। যেমন ব্রাজিল (গ্রুপ সি চ্যাম্পিয়ন) পাচ্ছে জাপানকে (গ্রুপ এফ দ্বিতীয়), আর্জেন্টিনা (গ্রুপ জে চ্যাম্পিয়ন) পাচ্ছে কেপ ভার্দেকে (গ্রুপ এইচ রানার্সআপ)। অথচ স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র গ্রুপসেরা হয়ে পেয়েছে বসনিয়াকে (গ্রুপ বি তৃতীয়)।

এর পেছনে কোনো গোপন ষড়যন্ত্র নেই। টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগেই ফিফা গাণিতিক হিসাব কষে পুরো নকআউট ব্র্যাকেট নির্ধারণ করে রেখেছিল। ড্রয়ের আগেই ঠিক হয়ে ছিল কোন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন কোন গ্রুপের রানার্সআপ বা তৃতীয় দলের বিপক্ষে খেলবে।

এই ব্যবস্থার কারণগুলো হলো: প্রথমত, গ্রুপ চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে ১২ জন, রানার্সআপ ১২ জন, তৃতীয় স্থানধারী ৮ জন—এই সংখ্যার ভারসাম্যের কারণে সব গ্রুপসেরাকে তৃতীয় দলের বিপক্ষে খেলানো সম্ভব নয়। দ্বিতীয়ত, একই গ্রুপের দুই দল যেন নকআউটের প্রথম ম্যাচেই আবার মুখোমুখি না হয়। তৃতীয়ত, দলগুলোর বিশ্রামের দিনের ভারসাম্য বজায় রাখতে—কোনো দল যাতে গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার পাঁচ দিন পরে নকআউট না খেলে, আর কোনো দল যাতে মাত্র দুই দিন পরে না খেলে।

এই ধারণা আসলে নতুন নয়। ইউরো ২০১৬-তে ২৪ দলের ফরম্যাট চালু হওয়ার সময় উয়েফাও একই সমস্যায় পড়েছিল এবং একই ধরনের প্রি-সেট ব্র্যাকেট ব্যবহার করেছিল। ফিফা শুধু সেই পদ্ধতিকে আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেছে।

ফিফার এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো ভ্রমণ, সূচি, স্টেডিয়াম, সম্প্রচার ও নিরাপত্তার ভারসাম্য রাখা। তিন দেশে ছড়িয়ে থাকা ১০৪ ম্যাচের এই বিশাল টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্ব শেষে নতুন করে ড্র করা সম্ভব ছিল না।