ছোটদের স্ক্রিন সময়: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা
যুক্তরাজ্যের এক যুগান্তকারী গবেষণায় দেখা গেছে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের স্ক্রিন টাইম তাদের বিকাশে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষকরা সরকারি নির্দেশনা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রিটেনের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষকদের একটি দল সম্প্রতি একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা প্রকাশ করেছে, যেখানে শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এই গবেষণায় লিডস, লিডস ট্রিনিটি, লাফবরো এবং অ্যাসটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পেশাদাররা অংশ নিয়েছেন।
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন সময় শিশুদের মা-বাবা ও যত্নদানকারীদের সঙ্গে বন্ধন গড়ে তোলার সুযোগ কমিয়ে দেয়। এছাড়াও শারীরিক খেলাধুলা, ভাষাগত বিকাশ এবং ঘুমের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুরা এখন সান্ত্বনা ও প্রশান্তির জন্য মা-বাবার কাছে না গিয়ে ডিজিটাল ডিভাইসের দিকে ঝুঁকছে।
লিডস ইউনিভার্সিটির মিডিয়া বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক রাফ ক্লেটন বলেছেন, অনেক মা-বাবা নিজেদের স্ক্রিন ব্যবহার সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা পান না। ফলে তারা অজান্তেই শিশুদের অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসে অভ্যস্ত করে তুলছেন।
গবেষকরা সরকারের কাছে সুপারিশ করেছেন, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নিয়মিত স্ক্রিন টাইমের নির্দেশনা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তারা মনে করেন, এই নির্দেশনাগুলো মা-বাবাদের কাছে নিরাপদ বলে ভুল বার্তা দিতে পারে।
কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক মন্ত্রী আন্দ্রেয়া লিডসম বলেছেন, এটি একটি গুরুতর সতর্কবার্তা। জীবনের প্রথম ১,০০১ দিনে স্ক্রিন ব্যবহার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে এই সমস্যার দায়ভার শুধু মা-বাবার ওপর চাপানো উচিত নয়।