বেঞ্চ শক্তির চমক দেখিয়ে জয়ে আর্জেন্টিনা
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা তিন জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠেছে আর্জেন্টিনা। মেসি বিশ্রামে থাকলেও বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছেন। তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ দারুণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে টানা তিন জয়ে গ্রুপ 'জে'-র শীর্ষে থেকে নকআউটে উঠেছে। কোচ লিওনেল স্কালোনি এদিন প্রথম একাদশে বড় পরিবর্তন আনেন। নিয়মিত তারকা লিওনেল মেসিকে বিশ্রামে রেখে শুধু গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ও স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজকে একাদশে রাখা হয়। তবুও আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলেছে। মাঝমাঠে বলের দখল ধরে রেখে আক্রমণ গড়া এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা — সেই চেনা আর্জেন্টিনাই মাঠে দেখা গেছে।
ম্যাচে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছেন তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ। ইতালির কোমোতে খেলা এই ফুটবলার একের পর এক পাস ও বুদ্ধিদীপ্ত টাচে আর্জেন্টিনার আক্রমণে প্রাণ জোগান। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেসও রক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বারবার উঠে এসে আক্রমণে অবদান রেখেছেন। জিওভান্নি লো সেলসো আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন। পরে লাউতারো পেনাল্টি থেকে ব্যবধান বাড়ান। জর্ডানের মুসা আল-তামারি একটি গোল শোধ করলেও আর্জেন্টিনা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কখনোই হাতছাড়া করেনি।
মেসি বদলি হিসেবে নেমে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিক থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা ১৯-এ নিয়ে গেছেন এবং টুর্নামেন্টে ছয় গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার অবস্থানও ধরে রেখেছেন।
কৌশলগতভাবে আর্জেন্টিনা প্রমাণ করেছে, তারা শিরোপা জেতার মতো পরিপূর্ণ একটি দল। ২০২২ বিশ্বকাপের পাশাপাশি টানা দুটি কোপা আমেরিকাও জিতেছে তারা। তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো দেশের জন্য সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা। স্কালোনি বলেছিলেন, 'আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, মানুষ যেন এই দলটার সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পায়। তারা যেন অনুভব করে, এই দল তাদেরই প্রতিনিধিত্ব করছে।'
এখন আর্জেন্টিনার প্রকৃত পরীক্ষা এখনো বাকি। শেষ বত্রিশে তাদের প্রতিপক্ষ চমক কেপ ভার্দে। তবে শক্তিশালী স্কোয়াড আর দলগত ফুটবলই আর্জেন্টিনাকে আরেকটা বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার করে তুলছে।